ক্যাপিটল হিলে নিহত নারী ছিলেন মানসিক চাপগ্রস্ত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস ও ইউএস ক্যাপিটল হিলের সুরক্ষা সীমা উপেক্ষা করে যে নারী গাড়ি নিয়ে রাস্তা বাইপাস করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি মানসিক চাপগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্বাসরুদ্ধ ওই ঘটনার পর অক্ষত অবস্থায় গাড়ি থেকে তার ১৮ মাস বয়সী সন্তানকে বের করে আনে পুলিশ। গাড়িতে পুলিশ ১৫টি গুলি করলেও শিশুটির কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই হাউস ও সিনেটের অধিবেশন বাতিল করা হয়। ক্যাপিটল ভবন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এর আগে ওই নারী হোয়াইট হাউসের নিকটে একটি ব্যারিকেড ভেঙে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন। পুলিশ তাকে ধাওয়া দিলে তিনি ১৩০ কিমি বেগে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলের দিকে গাড়ি হাকিয়ে দেন। পুলিশ গুলি করতে করতে তার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে ক্যাপিটল হিলের অদূরে পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি এক পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আহত করে আবার গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেননি। পুলিশ গাড়ির ভেতর উপর্যুপরি গুলি ছুড়লে তিনি নিহত হন। এরপর তার শিশুসন্তানকে নিরাপদ হেফাজতে নেয়া হয়। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বা দূর্ঘটনা বলছে না পুলিশ। কারণ নিহত নারীর কাছে কোন ধরণের অস্ত্র পাওয়া যায়নি, তার সাথে ছিলো শিশুটি। আপাতত এই তথ্য জানালেও এই ঘটনা কেন ঘটেছে তার কারণ জানায়নি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে নিহত নারীর নাম গোপন রাখা হলেও সংবাদমাধ্যমের কাছে তার নাম ও ছবি প্রকাশ হয়ে গেছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর নাম মিরিয়াম ক্যারি। তিনি একজন দন্ত চিকিত্সক। তার মা এনবিসিকে জানিয়েছেন, মিরিয়াম গত বছর আগস্টে সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকেই অজ্ঞাত কারণে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। তাকে এ কারণে একাধিকবার হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি মাঝে মাঝে মতিবিভ্রমে ভূগতেন। তার মনে হতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে অনুসরণ করছে! কিন্তু সন্তানকে সাথে নিয়ে স্ট্যামফোর্ড থেকে ২৭০ মাইল পথ নিজের সেডান গাড়িটি চালিয়ে কেন ওয়াশিংটন ডিসিতে গেলেন সে ব্যাপারে মাথায় কিছু আসছে না বলে তার মা জানান। তিনি আরো বলেন, এর আগেও একবার ক্যারি গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তাতে গাড়ির টায়ার বিস্ফোরণ ঘটে। অপরদিকে, ক্যারির সাবেক বস ড. স্টিভেন ওকেন বলেন, তার অধীনে ক্যারি আট বছর চাকরি করেছেন। তাকে সব সময় সূখী নারী হিসেবেই মনে হতো। রাজনীতির ব্যাপারে তার মধ্যে কোনোদিন আগ্রহ দেখিনি।