প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ২১:৫৯

মো. রাশেদ আহমেদ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমির নাম বাংলাদেশ। এদেশের আনাচে-কানাচে, পথে-প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ। ধুলায় ধূসরিত মাটিগুলো যে অনেক দামি। এতো সুন্দর উর্বর আর সবুজের লীলাভূমি পৃথিবীতে খুবই কম দেশ আছে।

প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যতা হলো- গ্যাস, চুনাপাথর, তেল, বনায়ন, কৃষি জমি, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি। এই সম্পদগুলো সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়ন অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে আজও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যা বর্তমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। যে-সব সমস্যার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত সম্ভব হচ্ছে না তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রযুক্তির অভাব, সদিচ্ছা ও দক্ষ জনবলের অভাব।

তবে আশার আলো হচ্ছে বর্তমান প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যাসের কথা ধরা যাক, আজকাল শিল্প কল-কারখানা হতে শুরু করে বাসাবাড়ি পর্যন্ত গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে। এখন আমাদের দেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে, সিলেটের হরিপুরে, সেখান হতে গ্যাস উত্তোলন করা হয় ১৯৫৭ সালে। সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধান পাওয়া যায় ২০১৭ সালে ভোলায়। বাংলাদেশ এশিয়ার সপ্তম বৃহত্ গ্যাস উত্পাদনকারী দেশ এবং দেশীয় জ্বালানির ৫৬ শতাংশ পূরণ করে গ্যাস। যা কল-কারখানা পণ্য উত্পাদনে বড় অবদান রাখে।

তেল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম উত্স। কিন্তু প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছি না। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে প্রথম মহীসোপান এর সাতটি অংশে ছয়টি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিকে অনুসন্ধান দেয় কিন্তু ১৯৭৮ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তবে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে আবারও অগভীর সমুদ্রে নতুন করে চারটি অংশে বিদেশি কোম্পানিকে তেল অনুসন্ধানের অনুমতি দেয়। শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাবে আজও আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চুনাপাথর খনির সন্ধান পাওয়া যায়। তার মধ্যে জয়পুরহাট, জামালগঞ্জ অন্যতম। এসব খনি হতে চুনাপাথর উত্তোলন করা সম্ভব হলে বিদেশ থেকে আর চুনাপাথর আমদানি করতে হবে না। যার ফলে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং দেশে কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি হবে। আজ বিশ্বের অধিকাংশ ধনী রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু  ব্যবহারের নিশ্চিত মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করেছে। কাতারে মোট উপার্জনের ৭০ শতাংশ আসে শুধুমাত্র তেল থেকে। নরওয়ে তার অপরূপ সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জাদুঘরগুলোর জন্য বিখ্যাত। মত্স্যশিল্প প্রাকৃতিক গ্যাস আর অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভর করে সে দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয়। যা কোনো অংশে আমাদের দেশে কম নেই।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাকৃতিক সম্পদ একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। যে সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ যে কোনো ধরনের উন্নয়ন সম্ভব। আর এজন্য দরকার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া