হঠাও হাসিনা বাঁচাও দেশ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৪
বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল সিলেটে এক বিরাট জনসভায় ‘হঠাও হাসিনা বাঁচাও দেশ, হঠাও আওয়ামী লীগ বাঁচাও দেশ’- এই শ্লোগান তুলে বলেছেন, যদি ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্দলীয় সরকারের বিল সংসদে পাস না করা হয় তবে ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে হঠাও আন্দোলন। তিনি বলেন, আমি নির্দেশ দিচ্ছি প্রতিটি ভোট কেন্দে সংগ্রাম কমিটি করুন। এক দলীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে হবে। হয় নির্বাচনে দেখা হবে, না হয় রাজপথে দেখা হবে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হতে দেব না। বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনার মন্ত্রী-এমপিরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য টিকেট কেটে বসে আছেন। আপনার সামনে, পিছনে, ডানে বায়ে কেউ থাকবে না। তখন আপনাকে আমরা রক্ষা করবো। সম্মানের সঙ্গে রাখবো। আমরা প্রতিহিংসা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাপের থেকেও খারাপ। সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, এবার লাল কার্ড দেখাবেন। তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে প্রস্তুতি হিসাবে বিকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় খালেদা জিয়া ভাষণ দেয়ার আগে সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। ৫০ মিনিটের মতো বক্তব্য রাখেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আরেকবার ক্ষমতায় গেলে দেশকে গিলে খেয়ে ফেলবে। আওয়ামী লীগ যত জোর গলায় কথা বলুক না কেন শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবেও না। তিনি ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নয়ন চাই। তবে তিনি বলেন, দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করুন, একটি বিশেষ দলের সঙ্গে নয়। ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক করলে আপনারা বেশি লাভবান হবেন। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। জনগণ আছে ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে। তাই আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবেন? না আওয়ামী লীগের সঙ্গে? সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, এখনো বলছি, আমরা আন্দোলন করতে চাই না, আপনি সংসদে নির্দলীয় সরকারের বিল এনে পাস করুন। যতদিন মেয়াদ আছে, আপনারা ক্ষমতায় থাকুন। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, দেশ ও মানুষের কথা আপনারা চিন্তা করবেন। অন্যায়ভাবে জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না। অত্যাচার করবেন না। এরফল ভালো হবে না। একই সঙ্গে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনের কারো চাকরিচ্যুত করা হবে না বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বর্তমান সরকারের আমলে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা হবে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ সব কিছু দলীয়করণ করে ফেলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ ডিসি, এসপি, টিএনও, ওসি সবাই প্রধানমন্ত্রীর কথামতো কাজ করবে। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে হলে দুই পক্ষের জন্য নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা শুধু জি স্যার, জি স্যার, জি স্যার করেন। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। অবিলম্বে ইলিয়াছ আলীকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের সময় লংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়, তাদের সম্পত্তি দখল ও মন্দির ভাংচুর করা হয়। শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেম-ওলামাদের ওপর বিনাকারণে রাতের অন্ধকারে গুলি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদের নবী (স.) কে নিয়ে নাস্তিক ব্লগাররা কটূক্তি করলে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ জানায়। এ সময় বহু আলেম-ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে। ১ লাখ ৫৫ হাজার গুলি চালানো হয়েছে। অথচ বিডিআর বিদ্রোহের সময় একটি গুলিও চালানো হয়নি। সেদিন আমাদের সেনাবাহিনীর ভালো ভালো ৫৭ জন অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসবকি মানবতাবিরোধী অপরাধ নয় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপনার বিচার হবে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা বিদেশে গিয়ে প্রচার করেন তারা ক্ষমতায় না থাকলে দেশ নাকি জঙ্গিবাদে ভরে যাবে। অন্য ধর্মের লোকজন দেশে থাকতে পারবে না। কিন্তু আমি বলতে চাই আওয়ামী লীগের সময়ই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন জনসভার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমার একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। সেটি হচ্ছে বেয়াই-বেয়াইন সম্পর্ক। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ভবিষ্যতেও আমরা উন্নয়ন করব। তবে সিলেটের ১৯টি আসন আমাদের দিতে হবে। প্রতিশ্রুতি আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সিলেটে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। সিলেট-চট্টগ্রাম রেল লাইন ভাল করা হবে। এমন রেলের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে সিলেট আসা যাবে। সিলেটে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় হবে। চিনের সহায়তায় সিলেট ইপিজেড করা হবে। ‘ফলক বসলেও রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ হবে না’ বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, রামপালে কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুত্ কেন্দ হলে আমরা রক্ষা পাবো না, দেশ রক্ষা পাবে না। তাই এ বিদ্যুত্ কেন্দ হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুত্ দরকার; কিন্তু তা রামপালে নয়। এটা করলে সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। উদ্বোধনের মধ্যেই থেমে থাকতে হবে। কোনো অবস্থায় রামপালে বিদ্যুত্ কেন্দ করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ভারতেও কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ করতে চেয়েছিল; কিন্তু সে দেশের জনগণ করতে দেয় নাই। তাই বাংলাদেশের ঘাড়ে এসে চেপে বসেছে তারা। জনসভায় জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, আগামী ২৫ অক্টোবরের পর জামায়াত-শিবিরের নেতারা কারামুক্তি পাবেন। তিনি বলেন, হাসিনার ক্ষমতার বাতি নিভে গেছে। ২৫ তারিখের পরে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের কারামুক্ত করা হবে। আগামী ২৫ তারিখ (অক্টোবর) থেকে খালেদা জিয়ার কথায় চলবেন। সরকারের সময় ২০ দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকারের আর সময় নাই। তাদের মেয়াদ আর মাত্র ২০ দিন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের অনেকেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। আপনারাও প্রস্তুতি নিন কিভাবে বিদেশে পাড়ি দেবেন। কোন ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকবেন তা ঠিক করেন। আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবিরের শোডাউন আত্মগোপনে থাকা জামায়াত-শিবির গতকাল দলে দলে প্রকাশ্যে আসে সমাবেশকে কেন্দ করে। এই সমাবেশের মাঠে সকাল থেকে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সকালে বৃষ্টির ভেতর তাদের মিছিলে উত্তাল ছিল মাদ্রাসার ময়দান। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দলের নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবি ছাড়াও মিছিলে শ্লোগান দেয় ‘কে বলেছে রাজাকার, সাঈদী মোদের অহঙ্কার।’ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সিলেট রেজিস্টারি মাঠে সব চেয়ে বড় মিছিল নিয়ে জড়ো হয় শিবিরকর্মীরা। মোটর সাইকেল শোডাউনও করে ছাত্রশিবির। ১৫/১৬টি মোটর সাইকেলের প্রতিটিতে তিনজন করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী অংশ নেয়। এদিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জোয়ারের মতো মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটে। গোটা মহানগরী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছিলো। সকাল থেকে জামায়াত-শিবির ও জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক শোডাউন হলেও দুপরের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। বিএনপি-ছাত্র দল-যুব দল-স্বেচ্ছাসেবক দলের লাল-হলুদ ক্যাপ মাথায় নেতা-কর্মীরা মিছিলে মিছিলে জনসভায় সামিল হয়। আশ-পাশের এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। বেলা ১২টায় মহানগর সভাপতি এম এ হকের সভাপতিত্বে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ইলিয়াস আলীর সর্বাধিক ডিজিটাল ব্যানারের পাশাপশি মাঠের পূর্ব দিকে প্রয়াত অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানারে লেখা ছিলো- সিলেট উন্নয়নের রূপকার সাইফুর রহমান। জনসভার কর্দমাক্ত মাঠেও মানুষের তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিলো না। সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈয়ন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও কানাইঘাট— এই ১২টি উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এলাকা থেকে বাস-ট্রাকে করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই জনসভায় যোগ দেয়। জনসভার বক্তব্য শুনাতে পুরো এলাকায় শতাধিক মাইক লাগানো হয়। মাঠের কয়েকটি স্থানে যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এম কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লার মুক্তি দাবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়। মাঠের দক্ষিণ পাশের সড়কে ওই নেতাদের ছবি দিয়ে কয়েকটি তোরণও নির্মাণ করেছে জামায়াত। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হকের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন ১৮ দলীয় নেতাদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম, ইজ্জত উল্লাহ, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. ইসহাক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত আমিনী, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে উলামা ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মহিলা সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্র দলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ।