বাজেটে চাই নারীর ঘরের কাজের স্বীকৃতি ও জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ২২:০৩

কর্মজীবী নারী শ্রমিক জমায়েতে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী বাজেটে নারীর ঘরের কাজের স্বীকৃতি এবং জিডিপিতে তার মূল্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন কর্মজীবী নারী নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, অভিবাসী শ্রমিক এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের আয়ের উপরেই এই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অথচ তাদের মর্যাদা নেই এবং কর্মপরিবেশও তাদের নিরাপদ নয়। তারা শ্রমিকদের সংঘবদ্ধভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। শুক্রবার মিরপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘সিডও সনদ বাস্তবায়নে পোশাক শিল্প কারখানায় নারীর জন্য নিরাপদ ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ বিষয়ে গবেষণা হতে প্রাপ্ত ফলাফল শ্রমিকদের অবহিত করার লক্ষ্যে নারীশ্রমিক জমায়েত’ শীর্ষক এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মজীবী নারী এই জমায়েত ও সভার আয়োজন করে।

কর্মজীবী নারীর সভাপতি ড. প্রতিমাপাল-মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিতি সালমা খান। আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ - এর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কমিটি) শাহীন আক্তার পারভীন, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য রাফিয়া আক্তার ডলি। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কর্মজীবী নারী’র পরিচালক সানজিদা সুলতানা। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা রায় রমেশের মৃত্যুতে সভার শুরুতে কর্মজীবী নারীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ।

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, সিডও সনদে নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। নারীর ঘরের কাজের মূল্য যেন আগামী বাজেটে এবং পরে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি নুসরাত ও তানিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বর্ণনা করে তিনি নারীর উপর সকল ধরনের নির্যাতন বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নারী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, একদিকে কারখানায় কাজ করবো, আরেকদিকে নিজের মর্যাদা বাড়াবো, একইসাথে নায্য মজুরির দাবি করবো, ওভারটাইমের জন্য লড়াই করবো, সুন্দর জীবন গড়বো।

রাফিয়া আক্তার ডলি তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসী শ্রমিক এবং বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের আয়ের উপরেই এই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি সিডও সনদের দাবি এবং কর্মজীবী নারীর দাবি বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়ে শ্রমিকদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব আন্দোলন শ্রমিক আন্দোলন দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই শ্রমিকদের দায়িত্ব হলো শ্রমের ন্যায্য মূল্য বুঝে নেওয়া। তিনি শ্রমিকদের সংঘবদ্ধভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভা-প্রধানের বক্তব্যে কর্মজীবী নারীর সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, এই পোশাক শিল্প কারখানার উন্নতির জন্য মালিক-শ্রমিক এবং সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে, মালিক যখন শ্রমিকের উপর নির্যাতন করে তখন তার মনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে কাজের উত্পাদনশীলতা কমে যায়, এই কারণে উত্পাদনশীলতা ভারসাম্যের জন্য শ্রমিকের কাজের ভালো পরিবেশ যতটুকু জরুরি তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন মালিকের জন্য।