গত দু’ দিনের প্রবল বর্ষণে ডিএনডি’র বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডিএনডি’র বহু বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজ, সবজিক্ষেত ও নার্সারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে ডুবে আছে। ডিএনডি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ও নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধতকার সৃষ্টি করায় এ ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
স্থানভেদে ১ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। এসব এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ও নর্দমার সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে নর্দমার ময়লার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ভেঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে নারী-পুরুষ, শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, রোগী ও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী থানা এলাকার বিভিন্নস্থান তলিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী জুয়েল রোড এলাকায় শনিবার সকালে রাস্তায় হাঁটু পানি ভেঙ্গে লোকজনকে চলাচল করতে দেখা গেছে। জুয়েল রোড, পাইনাদী নতুন মহল্লা, সিআইখোলাসহ আশপাশের এলাকার নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। লোকজনের বসবাস করাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুয়েল রোড এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দা মান্নান জানান, রাস্তার ময়লা পানি ভেঙ্গে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছি। শনিবার বেলা ২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের ডিএনডি পাম্প হাউজে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিষ্কাশন খালে (পাম্প চালু থাকা অবস্থায়) পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৩ ফুট। যা শুষ্ক মৌসুমে থাকে ৬ ফুট। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের পাম্প হাউজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ লিয়াকত আলী খান জানান, পাম্প হাউজের ১২৮ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি পাম্পের মধ্যে ৩টি পাম্প চালু রয়েছে। মিজমিজির মৌচাক ব্রিজ এলাকার নিষ্কাশন খালে ভ্যানগাড়িতে করে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ওই সব ময়লা-আবর্জনা ডিএনডি’র পাম্প হাউজের মুখে পড়ায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
