যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে মামলার রায় ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই কর্মচারীকে ৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তারা দু’জন হলেনঃ ট্রাইব্যুনাল-১-এর পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়ন আলী ও সাঁটলিপিকার ফারুক হোসেন। গতকাল শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন রিমান্ড চান।
আদালতে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সহযোগীদের মাধ্যমে পেনড্রাইভে কৌশলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের খসড়া সরবরাহ করে ট্রাইব্যুনালকে বিব্রতকরত দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, অন্য আসামিদের বিষয়ে তাদের ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। আসামিদের পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান তাদের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। আদালতে শুনানিকালে তিনি বলেন, উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রত্যেক বিচারপতির কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা রয়েছে। যদি এই আসামিরা কম্পিউটার থেকে এসব নিত তা গোপন ক্যামেরায় দেখা যেত। মূলত তারা পরিস্থিতির শিকার। ছোট পদে চাকরি করে। ঘটনার মূল অপরাধীদের আড়াল করতে তাদের ধরা হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালাম আসামিদের ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার ডিবি পুলিশ এক ব্রিফিংয়ে দাবি করেছে, মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলামের সহকারী মেহেদী হাসান ট্রাইব্যুনালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়নকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। পরে যে কম্পিউটারে এই রায়ের কপি ট্রান্সফার করা হয়েছে সেই কম্পিউটারটিও জব্দ করে পুলিশ। আর এর সূত্র ধরে শুক্রবার দুপুরে ২টার সময় ব্যারিস্টার ফখরুলের চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে ২টি সিপিইউ, ১টি প্রিন্টার ও ৫০/৬০টি সিডি জব্দ করা হয়। মেহেদী হাসানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিবি রমনা জোনের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদি হয়ে গত শুক্রবার পুলিশ নয়ন আলী, ফারুক ও মেহেদী হাসানের নাম উল্লেখসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহাবাগ থানায় মামলা করেছে।
