প্রবল বর্ষণে তালায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৯
পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় গত তিনদিনের প্রবল বর্ষণে এবং কপোতাক্ষ বাঁধের ভাঙ্গনের কারণে তালা উপজেলার ৫০টি গ্রামের ৮ হাজার পরিবারের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার বিঘার ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের। এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা ত্রাণ দেয়ার পাশাপাশি দ্রুত কপোতাক্ষ খননের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কানাইদিয়া, কৃষ্ণকাটি, চরকানাইদিয়া, আটঘরা, জেঠুয়া, ঘোনা, কাজিডাঙ্গা, ভবানিপুর, খরাইল, নারানপুর, খানপুর, খড়েরডাঙ্গা, কাটাখালি, মাদরা, বিশুকাটি, মাগুরা ডাঙ্গা, কিসমত ঘোনা, তালামালো পাড়া, পুটিয়াখালী, কাশিপুর, রাঢ়িপাড়া, আমানুল্লাপুর, সেনপুর, গৌরিপুর, কুমিরা মালোপাড়া, কাটিপাড়া, কলাপোতা, নওয়াপাড়া, ধলবাড়িয়া, দেওয়ানীপাড়া, ওমরপুর, মানিকহার, দক্ষিণ সারসা, দাদপুর, সমনডাঙ্গা, গাবতলা, নিমতলা, কাপাসডাঙ্গা, গোয়ালপোতা, ভৈরবনগর, গঙ্গারামপুর, ঘোষনগর, নলতা মালোপাড়াসহ ৫০টি গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ কম-বেশি পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। কানাইদিয়া গ্রামের ইসলাম মীর জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় প্রতি বছরই এলাকা প্ল¬াবিত হচ্ছে। এর কোন প্রতিকার হচ্ছে না। মীর পাড়ার পানি বন্দী নূর ইসলাম জানান, প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া গো-খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, তার ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের প্রায় ১৫শ’ পরিবার পানি বন্দী হয়ে আছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। জালাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, সরকারিভাবে জিআর-এর ৬ মেট্রিক টন বরাদ্দপ্রাপ্ত চালের মধ্যে আড়াই মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ১০ মেট্রিক টন জিআর-এর চাল পাওয়া গেছে। আরো বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারকে সরকারিভাবে চাল দেয়া হয়েছে। বাকিদের সাহায্যের চেষ্টা চলছে।