ডা. ফারিয়া জামান ২০০০ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে ‘ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারী’ ডিগ্রী সম্পন্ন করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হসপিটালে মেডিক্যাল অফিসার পথে যোগদান করেন। এরপর ফারিয়া ২০০৩ সালের শেষের দিকে নিজেই একটি চেম্বার খুলে ডেন্টাল চিকিত্সা সেবা দিতে শুরু করেন। পারিবারিক কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন এবং ২০০৮ সালে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন ‘লায়ন আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল-এ। সেবায় নিজের উত্কর্ষতায় জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং আর কোর্সে অংশ নিতে ঘুরে এসেছেন ইন্ডিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ আরো কয়েকটি দেশ। তিনি দেখে এসেছেন বিভিন্ন দেশের চিকিত্সা সেবাদানের দিক ও ধরন। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি সেখানেই কর্মরত আছেন তিনি। কেবল মানুষের জন্য কিছু করার প্রণোদনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সামিন স্মাইল ডেন্টাল কেয়ার’ নামে নিজের শ্রমে প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রতিষ্ঠাই উপসংহার নয়। এখনও প্রতি মুহূর্তেই ডা. ফারিয়া জামান প্রতিযোগিতা করছেন নিজের সাথে, নিজের কাজের সাথে। প্রতিদিনই নিজের কাজের দক্ষতাকে বাড়াতে কোনো না কোনোভাবে উত্তরণ ঘটান নিজের মেধার, ধৈর্যের, দক্ষতার। কর্তব্যে সচেতন, কাজে নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী আর সেবাপ্রাণ ফারিয়া অফিস করেন অফিসিয়াল নিয়মেই। তবে কাজের প্রয়োজনে এ হিসাব তাঁর কাছে কখনোই বড় বিষয় হয়ে ওঠে না। প্রয়োজনে দ্বিধা না করে সাবলীলভাবেই কখনো কখনো কঠোর পরিশ্রম বা অফিসিয়াল সময়ের অধিক সময় কাজ করতে এতটুকু দ্বিমত করেন না নিজের সাথে। তিনি বললেন, ‘যে কাজ ভালো লাগে বা যে কাজে আপনি মনোতৃপ্তি পাবেন তা অধিক কেন দীর্ঘ সময় ধরে করে গেলেও এতটুকু ক্লান্তি পাবেন না। আমার কাজ আমার ভালো লাগে। যখন যে কাজ করি সে কাজ সন্তুষ্টি নিয়ে করি, তাই সে কাজে আনন্দও পাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পেশাগত কাজে সময়টাকে অত বিবেচনা করলে পেশাদারিত্ব থাকে না। কিছু করতে হলে সময় ব্যয় করতেই হবে। আমাদের কাছে কাজটাইতো আসল, নিশ্চয়, সময় না।’
চাকরি জীবনে প্রবেশের আগে পড়াশুনাকালীন ডা. ফারিয়া জামান নিজেকে চিকিত্সক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যেমন নিয়মিত করেছেন পরিশ্রম তেমনি এখনো পড়াশোনা বা একটা অধ্যবসায়ের মধ্যেই পার করেন দিনের কিছুটা হলেও সময়। তিনি বলেন, একটা অর্থ উপার্জনের উপায় হয়ে যাওয়া মানেই মানির জন্য সব হিসাব মিলে যাওয়া এমনটা চিন্তা করা সমীচীন নয়। চাকরিতে বা পেশায় ঢোকার পরই আসল দায়িত্ব শুরু হয়। সে অনুযায়ী প্রত্যেককে কাজ করতে হয়। এখানে পড়াশোনাটা হয়তো সেই স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো না কিন্তু একটা পড়াশোনা, ট্রেনিং, কোর্স সচেতন দৃষ্টি ইত্যাদির মধ্যদিয়েই এগিয়ে চলতে হয়। এখানে যে যত পড়াশোনা করবে, প্রতিজ্ঞা থাকবে নিজের সাথে তার জন্য ততই সহজ হবে উত্কর্ষতার পথ ডিঙ্গিয়ে যাওয়া।
কেন এ পেশায়?— জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন ‘আমি আসলে ছোটবেলা অর্থাত্ এইচএসসি পাস করার পর থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ডেন্টাল সার্জন হবো, সে মাফিক আমি এগিয়েছি। সবাইকে যে সরকারি চাকরি করতে হবে এমন কোনো কথা ধরে নিইনি। আমি একজন চিকিত্সক হবো, মানুষের পাশে থাকবো সেটাই বড় করে দেখেছি।’
নারী হিসেবে কাজের পরিবেশ বলতে জান্নাত আরা বলেন, ‘ঘর বা বাহির যেখানেই বলেন না কেন একটা অনুকূল আর প্রতিকূল শব্দ এর সাথে জড়িয়ে থাকবেই। অনুজদের প্রতি ফারিয়ার কথা, ‘সবার আগে নিজের পথ ঠিক করতে হবে যে সে কি করতে বা কি হতে চায় অথবা আজ থেকে কয়েক বছর পর সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায়। বিশেষ করে প্রত্যেককে পড়াশোনা করা অবস্থাই ঠিক করতে হবে সে ভবিষ্যতে কি করবে। সে মাফিক তাকে একটু একটু করে এগুতে হবে।
ছবি: আব্দুর রহিম
