এইচএসসি পরীক্ষার সমাজবিজ্ঞান

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২০:১৯
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ তোমাদের জন্য সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় আলোচনা করব যা তোমাদের জানা থাকা অতি প্রয়োজন। প্রত্যয়গুলো জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন হিসেবে কিংবা উদ্দীপকের বিষয় হিসেবেও পরীক্ষায় আসতে পারে। তোমাদের মনে রাখতে হবে সমাজবিজ্ঞানের যে কোন প্রত্যয় লিখতে হবে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়। কেননা সমাজবিজ্ঞানের অনেক প্রত্যয়ের সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত তাই পরীক্ষার খাতায় একটা গতানুগতিক সংজ্ঞা দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে পরিবার,বিবাহ কিংবা রাষ্ট্র বুঝে তোমাদের সেভাবে বুঝলে চলবে না।তোমাদের বুঝতে হবে এবং বুঝাতে হবে সমাজবিজ্ঞানে আলোকে। কেননা তুমি সমাজবিজ্ঞান পড়ছো। সমাজ সহজ কথায় সমাজ বলতে সঙ্গবদ্ধ মানুষকে বুঝায় যাদের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। অর্থাত্ কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পরস্পর নির্ভরশীল ও সংগঠিত জনসমষ্টিই হল সমাজ। এ জনসমষ্টি একে অপরের সাথে নানা সম্পর্কে আবদ্ধ।এ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকে এবং এ সম্পর্কের ভিত্তিতে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে।ম্যাকাইভার ও পেজ বলেন,যেসব সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে আমরা জীবন যাপন করি তাদের সংগঠিত রূপই সমাজ।সমাজ গঠনের মূলেই রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা। সমপ্রদায় সমপ্রদায় বলতে এমন একটি জনগোষ্ঠীকে বুঝানো হয় যারা একটি নির্দিস্ট এলাকায় বাস করে এবং তাদের মধ্যে সমপ্রদায়গত মানসিকতা রয়েছে।একই সাথে তাদের পেশা ও জীবনযাপন পদ্ধতির মধ্যে মিল লক্ষণীয়। যেমন বেদে সমপ্রদায়,কুমোর সমপ্রদায়,হরিজন সমপ্রদায় ইত্যাদি।একই ভাবে আমরা গ্রামীণ ও শহরের মানুষদের গ্রামীণ সমপ্রদায় ও শহুরে সমপ্রদায় হিসেবে বলতে পারি। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার সমপ্রদায়কে এমন একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেন যারা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বাস করে এবং যারা একই ধরণের জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। সমপ্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ও সংহতি দৃঢ়। সমপ্রদায়ের ভিত্তি হল এলাকা ও সমপ্রদায়গত মানসিকতা। সমাজ কাঠামো সমাজ কাঠামো বলতে সমাজের গঠন প্রণালীকে বোঝায়। সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ক,ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক,ব্যক্তির সাথে বিভিন্ন দল ও অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানে সম্পর্কসহ সব ধরণের সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই সমাজ কাঠামো গড়ে উঠে। রাডক্লিপ ব্রাউন ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সব ধরণের সামাজিক সম্পর্কেই সমাজ কাঠামো বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে জিন্সবার্গ বলেন,সমাজ কাঠামো হল সমাজকে রুপায়ন করে এমন প্রধান প্রধান সামাজিক গোষ্ঠী অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের যৌগিক সমন্বয়।মূলত সমাজ কাঠামো হল সামাজিক সম্পর্কের সমন্বিত রূপ। সামাজিকীকরণ সামাজিকীকরণ বলতে একটি প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয় যে প্রক্রিয়ার একটি শিশু সমাজের সদস্য হয়ে গড়ে উঠে। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। জম্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ এ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে যদিও শিশুকালই এর উপযুক্ত সময়। জম্মের পর শিশু একটি ধারাবাহিক পক্রিয়ার মাধ্যমে আস্তে আস্তে সমাজের আচার-আচরণ, ধ্যান-ধারণা,মূল্যবোধ প্রভৃতি রপ্ত করে।রপ্ত করার এ প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ। আর. টি. শেফার বলেন, সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি নির্দিষ্ট সমাজের সদস্য হিসেবে ব্যক্তি তার নিজস্ব সমাজের মনোভাব,মূল্যবোধ এবং কার্যাবলি রপ্ত করে। ধর্ম ধর্ম একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান।সব যুগে এবং সব সমাজে ধর্মের অস্তিত্ব বর্তমান। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণ ও বৈশিষ্টের ধর্ম থাকায় ধর্মের সর্বজন স্বীকৃত সংজ্ঞা দেয়া কঠিন। সমাজবিজ্ঞানী ডুর্খেইম ধর্মের সংজ্ঞায় বলেন, ধর্ম হচ্ছে পবিত্র বস্তুজগত্ সম্পর্কিত বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠানের এক সমন্বিত ব্যবস্থা। তার সংজ্ঞায় ধর্মের দুটা দিকের কথা বলা হয়েছে। একটি বিশ্বাস অন্যটি আচার-অনুষ্ঠান।অন্যদিকে টেইলর ধর্মকে আত্মা বা প্রেতাত্মায় বিশ্বাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতারাং বলা যায় ধর্ম হল কোন শক্তিতে বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত শক্তিকে খুশি করার জন্য আচার-অনুষ্ঠান।