পদ ছেড়ে নয়, স্বপদে থেকেই আগামী দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন সংসদ সদস্য বা এমপিরা। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ জানান, কমিশনের আইনজীবী তাদের জানিয়েছেন যে, আদালতের মতে সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে কমিশন আর আদালতের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে না।
কমিশনার হাফিজ বলেন, সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয়, ফলে সংসদ সদস্যরা স্বপদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার রফিক উল হকের একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই ধরনের রায় দিয়েছে যে, ‘সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয়।’ এ বিষয়ে কমিশনের আদালতে যাওয়ার দরকার নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন হওয়ায় বর্তমান সংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভাও তখন বহাল থাকবে। ফলে এমপিরা স্বপদে থেকে নির্বাচন করলে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে ৩ ধারায় উল্লেখ আছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী হওয়ার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলে গণ্য হবেন না। তবে এমপিদের ব্যাপারে এখানে স্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর এমপি পদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব আইনজীবীদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করে। আইনজীবীরা মত দেন যে, ‘এমপিরা অফিস অব প্রোফিটের আওতায় পড়ে না, তাছাড়া আদালতের রায় অনুযায়ী এমপি পদ লাভজনক নয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ইত্তেফাককে বলেন, এমপি পদ লাভজনক নয়। কারণ এমপিকে সরকার নিয়োগ দিচ্ছে না, নির্বাহী ক্ষমতাও নেই তাদের। তিনি শুধু আইন প্রণেতা। সরকার মন্ত্রীকে নিয়োগ দিতে পারে আবার বরখাস্তও করতে পারে। এ জন্য মন্ত্রী লাভজনক পদ। কিন্তু এমপিদের সরকারের নিয়োগ বা বরখাস্ত করার সুযোগ নেই। মূলত নিয়োগ, বরখাস্ত, নির্বাহী ক্ষমতা ও লাভ এই চারটি বিষয় লাভজনকের সংজ্ঞা ধরা হয়। কিন্তু এমপিরা এর মধ্যে পড়েন না।
নির্বাচনী আইন (আরপিও) অনুসারে লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর (চ্যাপ্টার-৩, ইলেকশন) ১২ অনুচ্ছেদের তৃতীয় ধারায় বলা আছে, কেউ সরকারের কর্মে লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
এদিকে, নির্বাচনকালে সব দলের জন্য সমান সুযোগ রেখে প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, আচরণবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা হবে। তবে আইন দিয়ে গণতন্ত্র কিংবা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় না। এটি অনুশীলনের ব্যাপার।
তিনি আরো বলেন, সংসদ রেখে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা এদেশে নেই। আমরা ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাও আমরা সংগ্রহ করেছি। কেউ যাতে বেশি সুবিধা না পায়, সে বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করবো।
শেরেবাংলা নগরে নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অনেক কাজ আমরা করে ফেলেছি, আইন-কানুন সংশোধন করা হয়েছে। আরপিও সংশোধন হওয়ার পথে। শুধু আচরণবিধি সংশোধন হয়নি। এতে কিছু সংযোজন-বিয়োজনের কাজ করা হবে।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা প্রসঙ্গে আবু হাফিজ জানান, যারা জনগণের জন্য কাজ করে তারা নির্বাচনে যাবে, দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হবে। নির্বাচন প্রতিহত করবে না তারা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর নিজকক্ষে সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। সংসদ বহাল থাকলে কমিশনের জন্য সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ রেখে নির্বাচন করা দুরূহ ব্যাপার।
