নদী ভাঙ্গনে দিশাহারা দাকোপের মানুষ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:০৯
নদী ভাঙ্গনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার মানুষ। প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতচিহ্ন শুকাতে না শুকাতেই শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝবঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন এ উপজেলার মানুষকে চরমভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সমপ্রতি সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী গ্রামের ১৬টি পরিবারের ৩৩টি ঘর ভাঙনের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতবাড়ি, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিসহ সর্বস্বহারা এই সব মানুষ বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দাকোপ উপজেলার চারপাশ জুড়ে রয়েছে ছোট-বড় অনেক নদী। যার মধ্যে শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝবঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর ভাঙ্গন অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন ও শিবসা নদী সংলগ্ন কালাবগী গ্রামের শেখ মহসীন হোসেন জানান, মাত্র কয়েক দিন আগে শিবসা নদীর ভাঙ্গনে কালাবগী গ্রামের ১৬টি পরিবারের বাড়িঘর ও মুদি দোকান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে ভেসে গেছে বাড়ির গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী ও মালামাল । গৃহহারা এই সব পরিবার বর্তমানে পাউবো’র বেড়িবাঁধের ওপর খোলা আকাশের নীচে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান উমাশংকর রায় জানান, জালিয়াখালী এলাকায় প্রায় ১১শ’ গজ, পারজয়নগর ও ভিটাভাঙ্গা এলাকায় ৫শ’ গজ, কালিনগর বাজারের উত্তর পাশে ১৬৬ গজ, জয়নগর বাছাড় বাড়ি উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ৬৬৬ গজ, ওয়াপদা অফিসের উত্তর পাশে ২শ’ গজ এবং হাটখোলা খালের গেটের পশ্চিম পাশে প্রায় ১শ’ গজ পাউবো’র ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। দ্রুত ওই সব স্থান মেরামত করা না হলে বাঁধ ভেঙ্গে যে কোন মুহূর্তে সুতারখালী ও কামারখালী ইউনিয়ন দুটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সূত্র মতে, শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝবঝপিয়া ও মাঙ্গা নদী তীরবর্তী কালাবগী, সুতারখালী, নলিয়ান, গুনারী, কালীবাড়ি, কামিনীবাসিয়া, জয়নগর, কামারখোলা, বটবুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জ, চুনকুড়ি, ঢাংমারী, বানিশান্তা, গড়খালী, মৌখালী, পানখালী ও চালনা বাজার এলাকার হাজার হাজার মানুষ অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মোতালেব শেখ বলেন, আমরা ভাঙ্গন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামত কাজ অনুমোদনের জন্য ঢাকায় জানিয়েছি। অনুমোদন হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।