বগুড়ার শেরপুরে সরকারের মহতী উদ্যোগ ডিজিটাল ক্লাসরুম কর্মসূচি অচল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজসহ ৫৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল শিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পিকার, পেনড্রাইভ, ইন্টারনেট মডেমসহ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব যন্ত্রপাতির প্যাকেটই খোলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাও নেই।
পাঠদান কার্যক্রম আনন্দময়, সহজবোধ্য ও শিক্ষাথী-সহায়ক করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআ্ই-প্রকল্প কর্তৃক উদ্ভাবিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের দ্বারা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি কর্মসূচির আওতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার পদক্ষেপ নিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শেরপুরের বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, ও মাদ্রাসায় সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি দিয়ে শুরু হয়নি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ব্যক্তিগত ও বিনোদনের কাজে ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন। শেরপুরে বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয় থাকলেও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবে কম্পিউটার কোনো কাজে আসছে না।
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউসুফউদ্দিন বিদ্যালয়ে গেলে কম্পিউটার শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম জানান, তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে ল্যাপটপ ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রজেক্টর পেয়েছেন। নবম শ্রেণির ছাত্ররা জানিয়েছে, একদিনও তাদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয়নি। গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় প্রজেক্টর প্যাকেট থেকে খোলাই হয়নি।
এছাড়া ল্যাপটপ কার তত্ত্বাবধানে থাকবে এ নিয়ে শেরপুরে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কম্পিউটার শিক্ষকদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। উপজেলার একজন শিক্ষক বলেন, তার স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম পিরিয়ডে কম্পিউটার ক্লাস থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। আবার ডিজিটাল ক্লাস করার সময় বিদ্যুত্ থাকে না।
