আমদানির নামে পাচার হচ্ছে অর্থ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫১
ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনী যন্ত্রপাতি) আমদানি হটাত্ করে বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে আমদানির নামে আবারো বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ ২০১০-১১ অর্থ বছরের তুলনায় কমেছিল ২৬ শতাংশ। এলসি খোলার পরিমাণ হাঠাত্ বেড়ে যাওয়ার এই ব্যাপারটি নজরদারি করতে দুদক মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিপূর্বে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমাদানির অনুমতি পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আবারো সে ধরনের পাচার শুরু হয়েছে কি-না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আর এই আশংকার প্রেক্ষাপটেই দুদক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ টিম এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে। তারা ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির ক্ষেত্রে ইনভয়েসিং যাচাই হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দুদকের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে কমিশন এ ব্যাপারে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ পণ্য আমদানি এখন নিম্নগামী। কিন্তু ব্যতিক্রম হিসেবে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি অনেক বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তেমন কোনো কল কারখানা স্থাপন করা না হলেও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপারটি নজরদারির মধ্যে রাখতে দুদক এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের একজন পরিচালক জানান, অর্থ পাচারকারীরা ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির আড়ালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যন্ত্রের দামের অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করে থাকে। পণ্যের ওভার ইনভয়েসিং যাচাই না হওয়ায় পাচারকারীরা এ সুযোগ পাচ্ছে। ক্যাপিটাল মেশিনারি রপ্তানিকারক, বন্দর এবং কাস্টমস কর্তপক্ষকে ম্যানেজ করেই আমদানির আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পণ্য দেশে না আসলেও অর্থ চলে যাচ্ছে বিদেশে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য ২৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের এলসি খোলা হয়। গত ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে এলসির মূল্যমান ছিল ১৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৪২ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩১ শতাংশ। অথচ গত ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছিল ২৬ শতাংশ। হাঠাত্ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নজরদারি করতে দুদক মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদক সূত্র বলছে, বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্ডার কিংবা ওভার ইনভয়েসিং যাচাই করলেও ক্যাপিটাল মেশিনারির ক্ষেত্রে তা করে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ালে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির নামে অর্থ পাচার রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির ব্যাপারে তথ্য নিয়ে দুদক যাচাই বাছাই করবে।