আশ্বিনের প্রায় শেষ। শরতের আকাশে শুভ্র মেঘ ভেসে বেড়াবে আবার রোদে ঝলমল করবে সমগ্র প্রকৃতি। হঠাত্ কখনো এক পশলা বৃষ্টি হলেও হতে পারে। আবার তত্ক্ষণাত্ উঁকি দেবে সূর্য। কিন্তু না, প্রলম্বিত বর্ষায় আষাঢ়-শ্রাবণের মত মুখ ভার করে আছে আকাশ। স্বাভাবিকভাবে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই দুটি লাইন- ‘খ্যাপা শ্রাবণ দেয়ে এল আশ্বিনেরই আঙিনায়।’
সাধারণত: অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী বায়ু বিদায় নিয়ে বর্ষার অবসান ঘটে। কিন্তু এবার বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী বায়ু বিদায় নেবে অক্টোবরের ২০ তারিখ নাগাদ। বৃষ্টিও অব্যাহত থাকবে - ততদিন পর্যন্ত। ফলে এবার পূজা ও ঈদুল আযহা বৃষ্টিস্নাত হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞগণ।
সাধারণত: মৌসুমী বায়ুর আগমন বিলম্বিত হলে প্রত্যাগমনও বিলম্বিত হয়। এ বছর বাংলাদেশে মৌসুমী বায়ুর সূচনা হয়েছিল যথা সময়ে,- জুনের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু প্রত্যাগমন বিলম্বিত হচ্ছে। বরং বিদায় বেলায় মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনি পরিস্থিতিতে চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে স্বাভাবিকের চাইতে শতকরা ৪৪ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত রকের্ড করেছে। গতকাল পর্যন্ত এ মাসের প্রথম ৭ দিনে সারা দেশে ৩ হাজার ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতমাসে সারা দেশে বৃষ্টি হয়েছে ৯ হাজার ৭০১ মিলিমিটার। গতমাসের বৃষ্টিপাতও ছিল স্বাভাবিকের চাইতে শতকরা ১০ ভাগ বেশি।
কেবল বাংলাদেশে নয়, পশ্চিম বঙ্গ ও বিহারসহ ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে এখনও মৌসুমী বায়ু সক্রিয়। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্থানের পূর্বাংশ থেকে মৌসুমী বায়ু বিদায় নিয়েছে। ক্রমান্বয়ে মধ্য ভারত হয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে মৌসুমী বায়ু। পঞ্জিকার পাতায় আর ঋতুর হিসাবে যাই হোক, বাস্তবে তখনই অবসান হবে বর্ষার। কমে আসবে বৃষ্টিপাত। তবে তা ২০ অক্টোবর নাগাদ।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ সানাউল হক জানান, বিষুব রেখার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ‘উইন্ড প্যাটার্ন’ বা বাতাসের ধরন বদলে গিয়ে বর্ষার সূচনা হয়। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বইতে থাকে জলীয় বাষ্প পূর্ণ ঠাণ্ডা বাতাস। এই জলীয় বাষ্প আসে বঙ্গোপসাগর থেকে। অন্যদিকে পশ্চিম থেকে আসতে থাকে শুকনো গরম বাতাস। ঠাণ্ডা আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে শুষ্ক গরম বাতাসের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয় মৌসুমী বায়ু। এই মৌসুমী বায়ু বিস্তার লাভ করে ভারত ও বাংলাদেশে- শুরু হয় বর্ষা মৌসুম।
