পশ্চিমাঞ্চল রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শেষ করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে গত ২ অক্টোবর আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে শেষ হয়েছে গতকাল রবিবার। ৯ অক্টোবর অগ্রিম ফিরতি টিকেট বিক্রি শুরু হবে। প্রথমদিন ১৮ অক্টোবরের ফিরতি টিকিট এবং পর্যায়ক্রমে আরো ৪ দিন অন্যান্য দিনের টিকিট বিক্রি করা হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। রাজশাহী স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল করিম জানান, ২ অক্টোবর থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে। প্রথমদিন ১১ অক্টোবরের, ৩ অক্টোবর ১২ অক্টোবরের, ৪ অক্টোবর ১৩ অক্টোবরের, ৫ অক্টোবর ১৪ অক্টোবরের, ৬ অক্টোবর ১৫ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর ঈদের দিন ধরে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ১৭ অক্টোবর ঈদ হলে আজ সোমবার ৭ অক্টোবর ১৬ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি করা হবে। একইভাবে উল্লিখিত স্টেশনের কাউন্টার থেকে অগ্রিম ফিরতি টিকিট আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিক্রি করা হবে। প্রথমদিন (৯ অক্টোবর) বিক্রি করা হবে আগামী ১৮ অক্টোবরের অগ্রিম টিকিট। এরপর ১০ অক্টোবর ১৯ অক্টোবরের, ১১ অক্টোবর ২০ অক্টোবরের, ১২ অক্টোবর ২১ অক্টোবরের ও ১৩ অক্টোবর ২২ অক্টোবরের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি অগ্রিম টিকিট কিনতে পারবেন। ভিভিআইপি অথবা ভিআইপিদের জন্য অতিরিক্ত কোচ থেকে এসি প্রথম শ্রেণীর ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অগ্রিম টিকিট অনলাইনে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমেও পাওয়া যাচ্ছে। সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল করিম বলেন, ২৫ শতাংশ টিকিট অনলাইন, ১৫ শতাংশ রোডসাইড, ৫ শতাংশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোটা নির্ধারিত রয়েছে। অবশিষ্ট ৫৫ শতাংশ টিকিট স্টেশনে কাউন্টারে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত টিকিট বিক্রি শেষ হলে কাউন্টার থেকে সিট নম্বর দেয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না বলে তিনি মতামত জানান। সরেজমিনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টারে দেখা গেছে, ভোর হওয়ার আগেই মানুষ টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের অভিযোগ, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি চক্র সক্রিয়। ফলে প্রতিদিন টিকিট বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কাউন্টার থেকে ‘সিট নেই’ বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্টেশনের কাউন্টার চত্বরেই অধিক দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল করিম। তিনি বলেন, কালোবাজারি প্রতিরোধে সম্ভাব্য সবধরনের তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। এবার ঈদে যাত্রীদের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে প্রস্তুত রয়েছে।