শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করুন--প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের প্রতি সবধরনের নিষ্ঠুরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাদের সঙ্গে আমরা যে রকম ব্যবহার করব, তারা সেভাবেই গড়ে উঠবে। গতকাল সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিশু দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদেরকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে তাদের প্রত্যেককে নির্যাতন থেকে রক্ষা ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, শিশুরা আগামী দিনের নেতা এবং সকল সম্ভাবনার আধার হওয়ায় তাদের অধিকার সংরক্ষণ ও তাদেরকে উত্তম আদর্শের সঙ্গে গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. প্যাসকল ভিল্লেনিউভে বক্তৃতা করেন। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় শিক্ষা গ্রহণরত দুই সুবিধাবঞ্চিত শিশু অথৈ ও ফয়সাল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং দর্শকদের সঙ্গে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। ‘শিশুরা নরম কাদামাটির মতো’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমরা যে রকম ব্যবহার করবো তারা সেভাবেই বেড়ে উঠবে। তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য আদর, ভালবাসা এবং শারীরিক ও মানসিক যত্ন প্রয়োজন। শিশুরা বড়দের কাছ থেকে সবসময় বন্ধুসুলভ ব্যবহার আশা করে। শারীরিক শাস্তি তাদের সৃজনশীলতাকে সংকুচিত করে। এজন্য তাদের শারীরিক শাস্তি দেয়ার মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিতসহ সকল শিশুর প্রতি সবধরনের নিষ্ঠুরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার ও তাদের শিশু বয়সের আকাঙ্ক্ষা পূরণ থেকে বঞ্চিত না হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শিশু অধিকার ও বিকাশকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছে। নবজাতকের নিরাপদ আগমনে গরিব মায়েদের মাতৃত্ব ভাতা ও দুগ্ধমাতা ভাতা দিচ্ছে। শিশুরা যেন দেশের আগামী দিনের নেতা হিসাবে গড়ে উঠে জাতির সেবা করতে পারে-এজন্য আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের লেখাপড়ায় যত্ন নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘অটিস্টিক শিশুদের সমাজের বোঝা হিসাবে গণ্য করা যাবে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে অটিস্টিক শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের প্রতি সুস্থ শিশুদের আরো যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষা বছরের শুরুতে বিনামূল্যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক দিতে তার সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ শতভাগ শিক্ষা, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া হ্রাস ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে সহায়তা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ছোটবেলা থেকে শিশুদের মাঝে নেতৃত্বের গুণ বিকাশে ১৩ হাজার ৫৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র পরিষদ গঠন করা হয়েছে।