হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পলাতক নেতারা নতুনভাবে তামীর-উদ-দ্বীন নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হুজি নেতারা এমন তথ্য দিয়েছেন।
রবিবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে হুজির চার নেতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন হুজির সমন্বয়ক খলিলুর রহমান ওরফে শাহরিয়ার, অর্থ সম্পাদক শরিফুজ্জামান ওরফে মিল্টন, তামীর-উদ-দ্বীনের প্রতিষ্ঠাতা আমীর মাওলানা আবদুর রউফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল কাদের ও সক্রিয় কর্মী মাসুদুর রহমান ওরফে রানা। তাদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ৩২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১১৩৫ রাউন্ড এসএমজির গুলি, ২টি পাওয়ার জেল (উচ্চ বিস্ফোরক), ৫টি ডেটোনেটর, ১টি বিস্ফোরণ করার মেশিন ও ৮টি ককটেল উদ্ধার হয়। গতকাল র্যাব সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান, গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান, মেজর মোর্শেদ ও ক্যাপ্টেন মাকসুদ। র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের পর এই জঙ্গি সংগঠনটি রাজধানীতে নাশকতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি তামীর-উদ-দ্বীনের আমীর মওলানা আব্দুর রউফের যোগাযোগ ছিল। সংগঠনকে আবারো গোছানোর জন্য মাঝে-মধ্যে কারাগার থেকে আব্দুল রউফ মোবাইল ফোনে খলিলুরকে পরামর্শ দিতেন। রউফের প্রধান সংগঠন হরকাতুল জিহাদ হলেও তিনি তামীর-উদ-দ্বীন নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এই সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য খলিলুর রহমানকে এ সংগঠনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেন। খলিলুর যশোরের বাঘারপাড়া থানার যাদবপুর হাফেজী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০০৪ সালের নভেম্বরে ফরিদপুরের সুপার মার্কেটের সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় খলিলুর রহমান একজন আসামি।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত শরিফুজ্জামান ছিলেন তামীর-উদ-দ্বীনের অর্থ সম্পাদক। হরকাতুল জিহাদের গ্রেফতারকৃত নেতাদের মামলার খোঁজ-খবর নিতেন তিনি। ঢাকায় যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান করে ঢাকার জজ আদালতে প্রতিদিন ঘোরাফেরা করতেন। আদালতে বিভিন্ন মামলার হাজিরার সময় আব্দুর রউফ, মুফতি মাসুদ, মাসরুর, মুফতি ইব্রাহিম, ডা. মুহিবুল্লাহ, আব্দুল কাইয়ুম ও হাফেজ মাহমুদসহ হুজি, জেএমবি ও হিযবুত তাহরীর নেতাদের সঙ্গে তার দেখা হতো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শরিফুজ্জামান গাবতলী এলাকায় অবস্থিত আব্দুল কাদেরের বাড়ি থেকে বিভিন্ন ইসলামিক বই ও জিহাদী বই এনে ঢাকা জজ আদালতে মামলার হাজিরার সময় মওলানা রউফের কাছে ঐসব বই হস্তান্তর করেন।
র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কামান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, কাদের ও মাকসুদুরের সাথে কারাগারে বন্দি রউফের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। কাদের গাবতলীতে এক ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঐ বাড়িতে মাঝে-মধ্যেই হরকাতুল জিহাদের নেতাদের বৈঠক বসতো। বৈঠকে অনেকের সঙ্গে আব্দুর রউফের মোবাইল ফোনে কথা হতো। তিনি তাদেরকে তামীর-উদ-দ্বীন নামে সংগঠন গোছানোর নির্দেশ দেন। এ জন্য অর্থও সংগ্রহ করতে বলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা গত দুই মাস ধরে সংগঠনকে গোছানোর চেষ্টা করেন। তারা রবিবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে আশুলিয়ায় ঐ বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে জঙ্গিদের কাছে ১১৩৫ রাউন্ড এসএমজির গুলি কিভাবে এলো এমন প্রশ্ন করা হলে র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, একটি মাধ্যমে তাদের কাছে গুলি পৌঁছেছিল। এই গুলি ব্যবহারের জন্য এসএমজি অথবা একে-৪৭ রাইফেল অন্য মাধ্যমে পৌঁছেছে। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
