ইয়াবাসেবী স্বামীর আগুনে দগ্ধ স্ত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৯
এবার ইয়াবা সেবনকারী এক স্বামী তার ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ লাবনী আক্তারকে (২৮) আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর গতকাল রাতে মারা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইনের মেডিক্যাল রোডের ৪৩৫ নম্বর বাড়িতে। গত রবিবার রাত দেড়টার দিকে আর্তচিত্কারে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে দেখেন, লাবনীর শরীরের কাপড় আগুন জ্বলছে। মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর পর তাকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। এর মধ্যেই ইয়াবা সেবনকারী স্বামী মানিক চান পালিয়ে যান। লাবনী আক্তারের বাবা হেলাল খান জানান, ১২ বছর আগে জুরাইনের বখাটে যুবক মানিক চান জোর করে তার কলেজ পড়ুয়া কন্যাকে বিয়ে করে। এ বিয়েতে তাদের মত না থাকলেও মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে রাজি হন। বিয়ের পর তাদের সংসারে তাফসির (৬) ও উদয় (২) নামে দুই ছেলে জন্ম নেয়। কিন্তু মানিক চান ছিল বেকার। বাবার তিন তলার বাড়ির ভাড়া তুলে সংসার চালাতেন। দুই বছর আগে থেকে মানিক চান ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েন। মাদক সেবনে নিষেধ করলেই মানিক চান তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। এক পর্যায়ে বাড়িভাড়া আদায় করা টাকা দিয়ে ইয়াবা সেবন করতে থাকেন। লাবনীর মা লাইজু বেগম জানান, রবিবার রাতে মানিক চান লাবনীকে বলে, ‘আইজ তোর শ্যাষ দিন।’ স্বামীর কথাকে দুষ্টুমি ভেবে গুরুত্ব না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে লাবনী। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত লাবনীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মানিক। লাবনীর আর্তচিত্কারে পাশের ফ্ল্যাটে থাকা মানিকের ভাই-ভাবী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। তিনি জানান, লাবনীকে অত্যাচারের কথা তার শ্বশুর-শাশুড়িও জানতেন। তারা এজন্য ছেলেকে বকাও দিতেন। কিন্তু মানিক কারো কথা না শোনায় তারা লাবনীর মাকে জানায় যে মানিককে ডিভোর্স দিয়ে মেয়েকে নিয়ে যেতে। কিন্তু লাবনী তার দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীকে ছেড়ে যেতে চাইতো না। লাবনীর খালা রিনা জানান, গত চার বছর ধরে মানিক নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে আসছে। নেশার টাকার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য প্রায়ই সে লাবনীকে মারধর করত। একাধিকবার মানিককে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিয়েছিল লাবনী। স্বামীর অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে লাবনীর বাবা-মা লাবনীকে প্রায় সময় তাদের কাছে নিয়ে রাখতেন। কিন্তু মানিক শ্বশুর বাড়ি থেকে নানান কৌশলে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতেন। ঘটনার পাঁচ দিন পূর্বে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যান লাবনী। লাবনীর মামা শহিদ জানান, মানিক কোন কাজ করতো না। এলাকায় সে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিকবার সে জেলেও যায়। লাবনীকে জোর করে বিয়ে করেছিল মানিক। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকরা জানান, লাবনীর শরীরের ৫৩ শতাংশ পুড়ে যায়। ইনহেলার বার্ন (শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া) হওয়ায় তার অবস্থা ছিল শঙ্কটাপন্ন। সাধারণত শরীরের ৪০ ভাগের বেশি অংশ পুড়ে গেলে তাকে বাঁচানো খুবই কষ্টকর। গতকাল সকাল থেকে লাবনী সামান্য কথা বলতে পারলেও সন্ধ্যার পর থেকে কথা বলতে পারছিলেন না বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। অবশেষে রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। কদমতলী থানার এসআই আবু তাহের জানান, এ ঘটনায় লাবনী আক্তারের বাবা বাদী হয়ে মানিক চানকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।