মোসাদ্দেকের আত্মবিশ্বাসের রহস্য

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ২২:১৫

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোনো ‘বিগ হিটার’ নেই— এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক দিনের পুরনো আক্ষেপ। অবশেষে সে আক্ষেপ ঘোচালেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

তার আগ পর্যন্ত আকাশচুম্বি লক্ষ্য তো বটেই, অনেক সময়ই বিগ হিটারের অভাবে সাদামাটা লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

এবার বৃষ্টির কবলে পড়ে, গত শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে লক্ষ্যটা যখন ২৪ ওভারে ২১০ রান, সেসময় খুব আশাবাদী লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। কারণ, অমন লক্ষ্যে ‘বিগ হিটার’ কে হবেন বাংলাদেশের? কিন্তু, নিয়তি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এবার অন্য এক বাংলাদেশ দলকেই ভেবে রেখেছিল। ম্যালাহাইড স্টেডিয়ামে এই দলটির রূপকার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনিই এবার বিগ হিটারের দায়িত্ব নিলেন।

সাকিব আল হাসান দলে থাকলে ত্রিদেশীয় সিরিজের এই ফাইনালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে হয়তো মাঠেই নামা হতো না তার। কিন্তু, নিয়তি তাকে খেলালো। কেবল খেলাই নয়, তার ব্যাট থেকে এলো ৫২ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস। এর মধ্যে তিনি ৫০ ছুঁয়েছেন ২৩ বলে। ইনিংসে ছিল দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।

মোসাদ্দেক জানিয়েছেন, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই ইনিংসটার আগে তাতিয়ে দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে বিডি নিউজকে তিনি বলেন, ‘উইকেটে যাওয়ার আগে মাশরাফি ভাই বলছিলেন, সৈকত তুই পারবি। যা ইচ্ছা খেল, শেষ করে আয়।’ শুধু ওই সময়ই নয়, আগের ম্যাচে বোলিংয়ের সময়, এমনকি এবার ঢাকা লিগের পুরো সময়, মাশরাফি ভাই আমাকে নানাভাবে উত্সাহ দিয়ে গেছেন। দলের বাইরে ছিলাম তখন। উনি বলেছেন যে, কি কি করলে দলে ফিরতে পারি। অধিনায়ক এমন ভরসা করলে আত্মবিশ্বাস সবসময়ই ভালো থাকে।’

১৫.৪ ওভারে দলীয় ১৪৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় জয়ের জন্য ৫০ বলে দরকার ছিল ৬৭ রানের। ওভার প্রতি আটের ওপর। এ সময়েই জ্বলে ওঠেন মোসাদ্দেক। তার চূড়ান্ত রূপটা দেখা যায় ২২তম ওভারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি স্পিনার ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের করা সেই ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চারের মারে আসে ২৫ রান। ২৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ। আর এরই সুবাদে প্রথমবারের মতো কোনো বহুজাতিক আসরের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ।

ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেই এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন বলেই মনে করছেন মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে যাওয়ার পর আমার একটি ব্যাপারই কাজ করছিল যে, ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যে, খুব সহজ ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি বল বুঝে খেলতে। আর কিছু না।’

জয়টা এসেছে দুই তরুণ মোসাদ্দেক ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে চড়ে। তবে, মোসাদ্দেক জানালেন, এই বিশাল স্কোর যে তাড়া করে জয় সম্ভব সেই সাহসটা সিনিয়ররাই যুগিয়েছেন। বললেন, ‘আমরা যখন ফিল্ডিং করে ফিরেছি, তখন মাশরাফি ভাই থেকে শুরু করে মুশফিক ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাই, সবাই একটা কথা বলছিলেন যে, আমাদের যে ব্যাটিং সামর্থ্য আছে এবং পুরো টুর্নামেন্টে যেমন খেলেছি, আমাদের পক্ষে এই রান তাড়া করা সম্ভব।’

এই জয় আসন্ন বিশ্বকাপে কাজে দিবে বলেও মনে করেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দারুণ পারফরমেন্স করে ভালো লাগছে। ফাইনালে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে ইতিবাচক ব্যাপার। কিন্তু এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিশ্বকাপের জন্য আমরা কত ভালোভাবে প্রস্তুতি সাড়তে পারলাম। এখন আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে আমরা বিশ্বকাপে খেলতে যাব। আশা করি, বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে এই আত্মবিশ্বাস কাজে দিবে।’

ইংল্যান্ডের উইকেট আরো বেশি ব্যাটিং সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে উইকেট এখানকার চেয়ে ব্যাটিংয়ের জন্য আরো ভালো হবে। যদি আমি নিচের দিকে খেলার সুযোগ পাই এবং এমন ইনিংস খেলতে পারি তবে দলের কাজে দিবে।’