ডিমফ্রাই

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪৮
ডিমফ্রাই, ডিমফ্রাই আর ডিমফ্রাই। ডিমফ্রাই ছাড়া আর কিচ্ছু বোঝে না টুকটুকি। উঠতে, বসতে, ঘুরতে টুকটুকির ডিমফ্রাই খাওয়াই চাই-ই, চাই। ডিমফ্রাই ছাড়া অন্য কোন খাবার দেখলেই মাথা ঘুরে ওঠে টুকটুকির। ডিম ছাড়া দুনিয়ার সব খাবার তার অপছন্দ। তাইতো তার বাবা রোজ ১০টা করে ডিম কিনে রাখে ফ্রিজে। বাবা ডিম আনতে দেখলেই টুকটুকি খুশিতে একলাফে বাবার কোলে ওঠে। কিন্তু টুকটুকির মা খুবই চিন্তায় পড়ে গেলেন। ডিম ছাড়া অন্য যেকোনো খাবার সামনে আনলেই টুকটুকি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একরোখা এই পুচকে টুকটুকি ডিম ফ্রাই খাবেই খাবে। অবাক ব্যাপার হলো যদি কোন মেহমানও বাসায় বেড়াতে আসে তাদেরকে চকোলেটের বদলে টুকটুকির জন্য ডিম আনতে হয়। নয়তো টুকটুকি ভ্যা-ভ্যা করে কেঁদে পুরো ঘর মাথায় তুলতো। তাইতো বাবাও চকলেটের পরিবর্তে নিয়ে আসেন ডিম। বাবা-মেয়ের কাণ্ড দেখে দিন দিন টুকটুকির মায়ের রাগ আকাশে উঠতে থাকে। মা, বাবাকে বলেন, ‘বুঝি না বাপু তুমি কি শুরু করলে গো, মেয়ে যা বলছে তাই করছো। তোমারও কি জ্ঞান লোপ পেয়েছে? মেয়ে কি শুধু ডিম ফ্রাই খেয়ে বড় হবে? এই অভ্যাস কি যাবে কখনো? আজ থেকে তুমি আর তোমার মেয়ে জানো। আমি কিছু জানি না। এমন চলতে থাকলে লোকে আমাদের পাগল বলবে।’ মা বাবাকে বকাঝকা দিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। বাবার মনটা এক্কেবারে খারাপ হয়ে গেলো। বাবা পুচকে টুকটুকিকে কোলে নিয়ে বললেন, ‘কি করি মামনি আজ ডিমফ্রাই করবে কে? মা তো ক্ষেপেছে।’ টুকটুকি বাবাকে বলে, ‘বাবা তুমি চিন্তা করো না। আজ আমি আর তুমি মিলে ডিম ফ্রাই করবো। মামনি কিভাবে রান্না করে আমি জানি।’ যেই কথা সেই কাজ। বাবা মেয়ে মিলে যেই না চুলোয় ডিম ফেটে ফ্রাই করবে পর পর ১০টা ডিম গেলো গোল্লায়। কোনোটি গেলো চুলোর নিচে, কোনোটি গেলো মাটির নিচে, কোনোটি গেলো এক্কেবারে টুকটুকির মুখে। কিছুক্ষণ পর মা এসে মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘হায় হায় ডিম কি কেউ এভাবে ফ্রাই করে? তোমরা বাবা, মেয়ে মিলে আমার পরিষ্কার রান্নাঘরটাকে উল্টো ডিমফ্রাই করে দিলে।’