তোমাদের জন্য লেখা

টাকা সাহেবের গল্প

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪৮
বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম কাগজী মুদ্রা বা ধাতব মুদ্রা। একসময় টাকার কোন প্রচলনই ছিলো না। মানুষ তখন পণ্যদ্রব্য বিনিময় করে চাহিদা মেটাতো। তাই টাকার ইতিহাস সুপ্রাচীন। টাকার অসংখ্য এবং প্রামাণ্য তথ্য নিয়ে লেখা আলোচনা বইটি টাকা সাহেবের গল্প। এটি লিখেছেন সুপরিচিত লেখক মাহফুজুর রহমান। ছোটদের জন্য তিনি অনেকগুলো বই লিখেছেন। এর মধ্যে পরী রানি ও রাক্ষসের গল্প, এক দেশে ছিল এক পরী এবং ভূত ও বুদ্ধিমান বালক বিশেষভাবে উল্লেখ্য। আলোচ্য বইটি রয়েছে টাকার ইতিহাসের পাশাপাশি স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা, তাম্রমুদ্রা, কাগুজে নোট, ট্রাভেল চেক ও ক্রেডিট ফান্ডের প্রচলনের ধারাবাহিক তথ্য। শুধু তাই নয়, টাকার উত্তরসূরি-ই-ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং-এর কথাও সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন লেখক। বইটির সহজ-সরল বর্ণনা সবাইকে মুগ্ধ করবে। লেখক লিখেছেন পৃথিবীর প্রথম টাকশাল কোথায় হয়েছিল তা সঠিকভাবে বলা যাবে না। আমরা জেনেছি যে যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও কয়েকশ বছর আগে তুরস্কের ছোট্ট একটি দ্বীপ লিডিয়াতে প্রথম ধাতুর মুদ্রা চালু হয়। যতদূর জানা যায় এসব ধাতুর মুদ্রা টাকশালে তৈরি করা হতো। মনে করা হয় লিডিয়ার রাজধানী সার্ডিসে এই টাকশাল ছিল। সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে গিজিজ ইলেকট্রামের টাকা বানাবার জন্য প্রথম টাকশাল বসিয়েছিলেন। ইজিনা নামক দ্বীপেও রুপার টাকা বানাবার জন্য টাকশাল বসানো হয়েছিল। গ্রিসের লোকেরা ইতালি, পারস্য, ভারত ও ভূমধ্যসাগরের তীরের দেশগুলোকে মুদ্রা বানাবার কৌশল শেখায়। গ্রন্থটির বিশেষ আকর্ষণ হলো সকল মুদ্রার ধারাবাহিক রঙিন ছবি বা ছবির আরো আকর্ষণ হলো: পৃথিবীর সকল দেশের নাম, রাজধানীর নাম ও মুদ্রার নাম সংকলন করা হয়েছে। এ ধরনের বই এর আগে কেউ লেখেননি। এর আগে আমরা শামসুল হক রচিত ‘টাকা জাদু জানে’ বইটি আমরা পড়েছি। কিন্তু এ বইটির মুদ্রণ পরিপাট্যে সম্পূর্ণ আলাদা। উন্নতমানের কাগজে চার রঙে ছাপা বইটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ শিল্পী হাশেম খানের আঁকা। এটি ছাপা হয়েছে পুরানা পল্টনস্থ চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে। মূল্য চারশো টাকা। ছোট-বড় সকলের কাছে টাকা সাহেবের গল্প সমাদৃত হবে। খালেক বিন জয়েনউদদীন