ওরা জানে না স্কুলের ঠিকানা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২০:২২
শিশু সুহেল, তফাজ্জল, রাসেল, হামিদ আর খুশি। ওদের প্রত্যেকের বয়স ৫-৬ বছর। এ বয়সে বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলে যাবার কথা। অথচ দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত ছোট্ট এই শিশুরা জানে না স্কুলের ঠিকানা। অন্য শিশুরা যখন স্কুলে যায় তখন তারা বেরিয়ে পড়ে খাবারের সন্ধানে। কাঁধে বস্তা নিয়ে সারাদিন ডাস্টবিনের ময়লা ঘেটে যা পায় তা বিক্রি করেই চলে ওদের জীবন। স্কুলগামী শিশুদের দিকে অপলক চেয়ে থাকে পথ শিশুর দল। রঙ্গিন জামা পরে নতুন বই নিয়ে ওদেরও পাঠশালায় যেতে মন চায়। পেটের তাগিদে ভাঙে স্বপ্ন, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে নামে ডাস্টবিনে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ফুটপাত ও কলোনীগুলো বেড়ে ওঠা শতাধিক শিশুদের কথা কে শুনবে? সুহেলরা জানায়, “পড়তে মন চায়। স্কুলে গেলে খামু কি। সারাদিন ময়লা-আর্বজনা থেকে কুঁড়িয়ে ৮০-৯০ টাকার মাল পাওয়া যায়। তাই বেচে খাই। যে দিন পাই না উপোস করি। ” সরকার ছিন্নমূল শিশুদের কল্যাণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও কতিপয় লোভী মানুষের কারণে তা আলোর মুখ দেখে না। যার ফলে দেশের ছিন্নমূল শিশুদের বিরাট একটি অংশ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। নানাবিধ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাড়ছে এসব শিশুর উপস্থিতি। একটা অংশ হয় মাদকাসক্ত, জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মৌলিক অধিকার। এসব শিশুর সেই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।