সন্ত্রাস, দুর্নীতি ছাড়া বিএনপি কিছুই দিতে পারেনি

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যা ও খুনের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপি’র জন্ম হয়েছিল। তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর দুঃশাসন ছাড়া মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে লালন-পালন করে। তাই দেশের মানুষের শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রাখতে আগামী নির্বাচনে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাইর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ঝিনাইদহ সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস মুক্ত করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার সেই রক্তাক্ত জনপদ ফিরে আসে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে অত্যাচার, নির্যাতন, মানুষের অশান্তি। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে লুটপাট। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ৯০ লাখ বেকার যুবককে চাকরি দেয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বেকার যুবকরা নিজ চেষ্টায় কর্মসংস্থান করছে। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডাররা কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ইসলামের অবমাননা করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কোন ধরনের ইসলামের হেফাজত। আসলে এদের কাছে ধর্মকর্ম বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টান সম্প্রতির সাথে বসবাস করছেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে জঙ্গিবাদের স্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নের্তৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রযুক্তির উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৯৬ সালে সরকারে এসে আমরা আপনাদের হাতে মোবা?ইল ফোন তুলে দিয়েছিলাম। আজ সবার হাতেই মোবাইল ফোন। প্রযুক্তি আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি আমরা। আওয়ামী লীগকে আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা আপনাদের সেবা করেছি। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে আবারো দেশে জঙ্গিবাদ কায়েম হবে। এর আগে একই মাঠে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ১২টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন ও ৪টি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী শাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, শফিকুল ইসলাম এমপি, আব্দুল মান্নান এমপি, শফিকুল আজম খান এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।