পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা নয়। দুই দলের ৯টি টেস্টের ৮টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাকি একটির ফলাফল ছিল ড্র। এসব পরি-সংখ্যানের দিকে চেয়ে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজের হিসাব মেলাতে বসলে কিন্তু ভুল করবেন। কারণ এই সিরিজটা নিউজিল্যান্ডকে খেলতে হবে সেই বাংলাদেশের বিপক্ষে যাদের কাছে সর্বশেষ সাক্ষাতে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছিল তারা!
হোয়াইট ওয়াশের স্মৃতি নিয়েই আজ থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। খেলাটি সরাসরি সমপ্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও গাজী টেলিভিশন।
তবে সিরিজ শুরুর আগে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দুই অধিনায়কই আত্মবিশ্বাসের কথা শোনালেন। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে ভালো সূচনা করার ব্যাপারে আশাবাদী দু’জনই। মেঘলা আবহাওয়া ও নতুন উইকেটের কারণে অন্তত শুরুর দিনটায় পেস বোলারদের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারপরও দুই অধিনায়কই মনে করছেন স্পিনাররাও সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
বাংলাদেশি বোলারদের স্পিন যাদুতে ২০১০ সালে ওয়ান ডে সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেবার মূলত সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্সের কাছেই হেরে ফিরেছিল নিউজিল্যান্ড। ঐ সিরিজই অতীত বাংলাদেশের আত্মসমর্পণের করুণ চিত্র মুছে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক এই সিরিজের ম্যাচপূর্ব সমীকরণ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার খোরাক যোগাচ্ছে ক্রিকেট প্রেমীদের। সেই সিরিজে টাইগারদের অভাবনীয় পারফরম্যান্সের ফলে কার্যত বাংলাদেশ ওয়ানডের পরাশক্তি দলই হয়ে উঠেছে। এরপর বাংলাদেশ সিরিজ হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এবং শ্রীলঙ্কায় গিয়ে স্বাগতিকদের সঙ্গে সিরিজ ড্র করে এসেছে।
অবশ্য এসব ওয়ানডে পারফরম্যান্স দিয়ে শুধু নয়, টেস্ট পারফরম্যান্স দিয়েও বাংলাদেশ দাবি করতে পারে, নিউজিল্যান্ডের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। নিজেদের সর্বশেষ টেস্টে জয়ের ভেতর দিয়ে জিম্বাবুয়েতে সিরিজ ড্র করে ফিরেছে মুশফিকুর রহিমের দল। এ ছাড়া দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনা টেস্ট জিততে জিততে হেরেছে বাংলাদেশ এবং গলে ঐতিহাসিক ড্র নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দু:স্বপ্নের স্মৃতি বাদ দিয়ে সামপ্রতিক পারফরম্যান্স থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারে নিউজিল্যান্ড। তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশে সিরিজ ড্র করেছে এবং ইংল্যান্ডে গিয়ে সিরিজ জিতে ফিরেছে।
সামপ্রতিক ইতিহাস বাদ দিয়ে দলে উপস্থিত-অনুপস্থিত খেলোয়াড়ের তালিকার দিকে তাকালেও এগিয়ে রাখতে হবে বাংলাদেশকে। বেশ কিছুদিন পর দলে ফিরেছেন নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করার নায়ক সাকিব আল হাসান, আছেন বাংলাদেশের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। সেই সিরিজে অনুপস্থিত তামিম ইকবালও আছেন এবার দলে। মোমিনুল, এনামুল, সোহাগ, রবিউলের মতো বেশ কয়েকজন তরুণ ইনফর্ম খেলোয়াড় যোগ দেয়ায় তা দলের শক্তি বাড়াবে। ম্যাচের চরিত্র বদলে দেয়ারও ক্ষমতা রয়েছে এসব তরুণ খেলোয়াড়ের।
নিউজিল্যান্ড দলে এর ঠিক বিপরীত চেহারা। তাদের অন্যতম সেরা তিন পারফরমারকে ছাড়াই ঢাকায় পা রেখেছে দলটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজটাও হাতছাড়া হয় ড্যানিয়েল ভেট্টোরির প্রতিরোধের কারণে। এবার দলে নেই সেই ভেট্টোরি। নেই মার্টিন গাপটিলও। অন্তত টেস্ট সিরিজেও থাকছেন না তাদের সেরা পেসার টিম সাউদি।
সব হিসাব নিকাশ বলছে, বাংলাদেশ এই প্রথম বড় কোনো দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে পারে। স্বপ্নের সাথে আছে অতীতের সুখস্মৃতি ও আত্মবিশ্বাস। এখন শুধু হিসাব মেলার পালা।
