চট্টগ্রামে কোরবানির হাটে গরু বেশি, দাম কম

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
কোরবানি উপলক্ষে বন্দরনগরীতে বসা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পশুর হাট ও বাজারে বড় বাজেটের কোরবানি দাতা থাকায় কয়েক লাখ টাকা দামের গরু বিক্রির খ্যাতি রয়েছে। চট্টগ্রামের হাট-বাজারগুলোতে বেচাকেনা জমতে শুরু করেছে। বাজারে প্রচুর ভারতীয় গরু এনে রেখেছে পাইকারি গরু ব্যবসায়ীরা। এবার প্রচুর গরু আনার কারণে দাম কম বলে জানান তারা। ক্রেতারা গরুর দাম যাচাই করে দেখছেন। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা রক্ষা ও জালনোট প্রতারণা ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। যানজটের কারণে সড়কের উপর পশু বেচাকেনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সিটি করপোরেশন এবার ২টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দিয়েছে। স্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে- মুরাদপুর এলাকায় বিবিরহাট ও পাহাড়তলীতে সাগরিকা বাজার। অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে- কর্ণফুলী গরুর বাজার, স্টিলমিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, সল্টগোলা রেলক্রসিং মাঠ, কমলমহাজনহাট ও পোস্তারপাড় বিদ্যালয় মাঠ। সোমবার স্থায়ী বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর বেচাকেনা শুরু হয়েছে। অস্থায়ী হাটগুলোতেও বেচাকেনা আজকালের মধ্যে শুরু হবে। স্থায়ী বাজার বিবিরহাট ও সাগরিকা বাজারে প্রচুর কোরবানির গরু, মহিষ ও ছাগল এনে রেখেছেন পাইকারি গরু ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিবিরহাটে সাপ্তাহিক বাজার ছিল। স্থায়ী এই বাজারে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার কোরবানির পশু বিক্রির জন্য এনেছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা। পাইকারি গরু ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৬৫টি ভারতীয় গরু এনেছেন, আরো গরু আসার পথে রয়েছে। সর্বনিম্ন ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার গরু আনা হয়েছে। দাম এবার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।’ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পশুর ক্রেতা এসেছে- তারা গরুর দাম যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। বিক্রি তেমন হচ্ছে না। কয়েকজন ক্রেতা জানান, গরুর দাম এবার কিছুটা কম মনে হচ্ছে। সামনে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হলে তখন বোঝা যাবে। গরু ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, চট্টগ্রামে তাদের সমিতিভুক্ত ৩১৪ জন গরু ব্যবসায়ী রয়েছে। এছাড়া আরো ২ শতাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী কোরবানির সময় বিভিন্নস্থান থেকে গরু নিয়ে আসে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় গরু এনেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সাগরিকা গরুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শওকত আলী ইত্তেফাককে বলেন, সাগরিকা গরুর বাজারে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ভারতীয় গরু আনা হয়েছে। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ায় ক্রয়মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। পথে পথে চাঁদাবাজি নিয়েও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দেশে পশু কোরবানির গরু পালন করা হয়। কৃষকরা কোরবানিতে বিক্রি করার জন্য মোটা-তাজা করে থাকেন। চট্টগ্রামের লাল জাতের গরুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও সন্দ্বীপ এলাকায় দেশীয় লাল জাতের প্রচুর গরু পালন করা যায়। গৃহস্থালিরা এসব গরু বেশি লাভের আশায় শহরের বাজারগুলোতেও নিয়ে আসেন। ছোট-বড় থাকার কারণে ক্রেতারা সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের গরু কিনতে পারেন। অনেকেই ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশু এনে নগরীর অলিগলি ও খালি জায়গায় রেখেছেন। এবার সড়ক যানজটমুক্ত ও বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। শহরের বাজারগুলোতে জায়গার পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় গরু বাজারের জায়গা ছাড়িয়ে সড়কে বিস্তার করে। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এবার সড়কগুলো কোরবানির পশুমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘কোরবানির বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদানে সাদা ও পোশাকধারী পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি বাজারে পুলিশের একটি স্থায়ী কন্ট্রোল রুম থাকবে। জালনোট শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় জালনোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে।’ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কগুলোর পাশে অসংখ্য কোরবানির পশুর হাট বসে। স্থায়ী/অস্থায়ী বাজারগুলোর অধিকাংশই সড়কের উপর গরু রেখে বেচাকেনা হয়ে থাকে।