সময় বাড়িয়ে পাস হল অর্পিত সম্পত্তি বিল

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:১৫
গতকাল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল-২০১৩ পাস হয়েছে। অর্পিত সম্পত্তির জন্য আবেদন করার সময়সীমা বৃদ্ধি করার জন্য বিলটি আনা হয়। পাসকৃত বিলে অর্পিত সম্পত্তির ‘খ’ তফসিল বাতিল করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী রোজাউল করিম হীরা বিলটি উত্থাপন করে পাস করার প্রস্তাব করেন। বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য বিলটি জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণসহ সংশোধনী প্রস্তাব দেন। ডেপুটি স্পিকার কর্ণেল (অব.) শওকত আলী বলেন, যেসব সদস্য বিলটি নিয়ে সংশোধনী এবং জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা সংসদে অনুপস্থিত। আর সে কারণে এসবের কিছুই উত্থাপিত হলো না। বিলে বলা হয়েছে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্পিত সম্পত্তি সম্পর্কিত ‘খ’ তফসিল বাতিল হবে এবং তা এমনভাবে বাতিল হবে যেন, উক্ত তফসিলভুক্ত সম্পত্তি কখনোই অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়নি। এই আইনের অধীনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল, আপিল ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিল সম্পত্তির বিষয়ে ইতিমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত যে কোন মামলার রায় বা ডিক্রি বাতিল ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে এবং উক্ত ট্রাইব্যুনাল, আপিল ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন উক্ত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত সকল মামলা ‘এ্যাবেট’ (আপনা আপনি খারিজ) হয়ে যাবে এবং এরূপ এ্যাবেটমেন্ট এর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদানের প্রয়োজন হবে না। আরও বলা হয়েছে, বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিল সম্পর্কিত কোন আবেদন বা আপিল জেলা কমিটি, বিভাগীয় কমিটি বা কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে কোন পর্যায়েই থাকুক না কেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তফসিল ‘খ’ বাতিল সংক্রান্ত ধারায় আরও বলা হয়েছে, ‘খ’ তফসিল বাতিল হওয়া সত্ত্বেও উক্ত তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে সরকার বা কোন ব্যক্তির কোন স্বত্ব বা স্বার্থ সম্পর্কে প্রচলিত আইনের অধীন প্রতিকার লাভে আইনগত বাধা থাকবে না। একইসঙ্গে ধারা ২০ (ক) বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত ধারার অধীন গঠিত কোন বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনাল ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মামলা বিচারাধীন থাকলে তা এমনভাবে চলমান থাকবে যে, উক্ত ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত হয়নি এবং উক্ত মামলায় প্রদত্ত ডিক্রি ধারা ২ (ছ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রদত্ত ডিক্রি হিসাবে গণ্য হবে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিলটি উত্থাপন করা হয়। ভূমিমন্ত্রীর প্রস্তাবে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিলটি ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। অর্পিত সম্পত্তির জন্য আবেদন করার শেষ সময় ছিল গত ৩০ জুন। বিলে অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে মামলা বা আবেদন করার সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ১৬ এর উপধারা (১) এর পরিবর্তে নতুন (১) উপধারা প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ৩০ জুনের মধ্যে যারা আবেদন করতে পারেননি তাদের জন্য দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য এ বিলটি পাস করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে দেশে অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ ছয় লাখ ৬০ হাজার একর। এছাড়া বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বিল,২০১৩ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াসেফ ওসমান বিলটি উত্থাপন করে পাস করার প্রস্তাব করেন।