পবিত্র হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে হজ্বযাত্রীরা দেশের মাটি ছেড়ে যাওয়ার সময় ইহরাম পরিধান করেন। সেলাইবিহীন দু’ টুকরো সাদা কাপড় তাদের চোখের সামনে সে দিনটির কথাই মনে করিয়ে দেয় যে, মৃত্যু হলে এভাবেই কাফনের কাপড় পরানো হবে। এতে করে গুনাহর কাজ থেকে বিরত রাখতে প্রেরণা যোগায়।
ইহরাম পরিধানের পরই হজ্বযাত্রীরা সব ধরনের নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। পাশাপাশি তালবিয়া পাঠ ও আল্লাহর জিকির করে ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন। হজ্বের সময় এমন কিছু কাজকে পরিহার করতে হয় যেগুলো স্বাভাবিক সময়ে অনুমোদিত। কিন্তু ঐ অবস্থায় মহান আল্লাহ তা’আলা সেগুলো করতে নিষেধ করেছেন। হাজীরা নির্দিষ্ট স্থান মীকাত অতিক্রম করার সময় বলতে থাকেন ‘লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! হাজির! হে আল্লাহ, আমি হাজির!’ এর অর্থ হচ্ছে, তিনি তার মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুব্?হানাহু ওয়াতা’লার ডাকে সাড়া দিয়েছেন-তারপর থেকে তিনি আর কিভাবে কোনো গুনাহর কাজে লিপ্ত বা জড়িত হতে পারেন? আল্লাহর কাছে হাজির হওয়ার অর্থই হচ্ছে, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার সব নিষিদ্ধ কাজগুলোকে পরিত্যাগ করে শুধু তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তোমার কাছে চলে এসেছি।’
হজ্বে হোক অথবা হজ্বের বাইরে হোক, যখনই বান্দা একাগ্রচিত্তে তার গুনাহগুলোর জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ গাফুরুর রহিম অবশ্যই তার বান্দার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে শর্ত হলো, সে যেন জেনেশুনে পরবর্তী সময়ে গুনাহ আর না করে। (পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরান ১৩৫, নিসা : ১৮)। সাদা দু’টি কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে দেন হজ্বযাত্রীরা। ঠিক তেমনি তখন থেকেই তারা অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো থেকে সব ধরনের গুনাহর দাগগুলো মুছে নিজেকে পরিষ্কার করে নেন।
পবিত্র হজ্জ্বব্রত পালন করতে গিয়ে হাজীরা যখন জমজমের পানি পান করেন তখন এটি মহান আল্লাহ তা’আলা পাকের সেই করুণা ও অনুগ্রহের কথা মনে করিয়ে দেয়। আল্লাহ এই যমযমের পানি হযরত হাজেরা (আ.) ও তার ছেলে হযরত ইসমাঈল (আ.) এর উছিলায় গোটা মানব জাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত জারি রেখেছেন। এমন শুকনো ও কঠিন মরুভূমির বুকে এই সুপেয় পানির ধারা মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পান করে চলেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তার এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি এবং কিয়ামত পর্যন্ত কোন পরিবর্তনও হবে না। এটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ পানি। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জাজ্বল্যমান মু’জিযা।
