শেষ ধাপের ভোটযুদ্ধ আজ

সবার নজর পশ্চিমবঙ্গে অপেক্ষার ফল ২৩ মে

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ২২:২৩

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মহাযজ্ঞ শেষ হচ্ছে আজ। আট রাজ্যের ৫৯ আসনে আজ রবিবার শেষ ধাপের ভোটযুদ্ধ হবে। তবে এই ধাপের ভোটগ্রহণে ভারতের সবার নজর থাকছে পশ্চিমবঙ্গে। এই রাজ্যের ৯টি আসনে ভোট হবে; কিন্তু গত কয়েক ধাপের ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতা, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ, বিজেপির সভাপতি অমিত মাহের রোড শোতে হামলা ও কলকাতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মতো ঘটনা ভারতের নির্বাচনের শেষপ্রান্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভোট হবে বিহারের ৮, ঝাড়খণ্ডের ৩, মধ্যপ্রদেশের ৮, পাঞ্জাবের ১৩, পশ্চিমবঙ্গের ৯, চন্ডিগড়ের ১, উত্তর প্রদেশের ১৩ এবং হিমাচল প্রদেশের ৪ আসনে। এসব আসনে প্রায় ১০ কোটি ভোটারের ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৯১২ প্রার্থীর। এই দফার ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর, বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী কিরণ  খের, অভিনেতা সানি দেওল, লোকসভার সাবেক স্পিকার মিরা কুমার, কংগ্রেসের প্রার্থী অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা, মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি, অভিনেত্রী নুসরত জাহান, ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন এবং পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধাপের ভোট বদলে দিতে পারে ভারতের সরকার গড়ার চিত্র। আগামী ২৩ মে ভোট গণনা হবে। সেদিনই জানা যাবে আগামী ৫ বছরের জন্য কারা আসছেন ভারতের ক্ষমতায়।

গত কয়েক দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট চলাকালে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। ভারতের অন্য রাজ্যে এরকম সহিংসতা দেখা যায়নি। এর কারণ হলো বিজেপির অতি তত্পরতা। এই এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দুইটি থেকে বাড়িয়ে ২৩ আসনে জিততে চায় বিজেপি; কিন্তু ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস তাদের জেতা আসন ছাড়তে রাজি নয়। এই কারণে দুই দলের মধ্যে সংঘাত ও বাগযুদ্ধ বেড়েই চলেছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক জন নিহত হয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে শেষ ধাপে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সংঘাত ঠেকাতে ১০০ শতাংশ বুথেই রাখা হচ্ছে আধা সামরিক বাহিনী। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রচারণা।

মন্দিরে ধ্যানে মোদি, জোট গড়তে ব্যস্ত বিরোধীরা

দীর্ঘ দুই মাসের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে গতকাল শনিবার উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে ধ্যানে বসেন নরেন্দ্র মোদি। পাহাড়ি পোশাক পরে প্রায় আধা ঘণ্টা ছিলেন তিনি। মন্দির চত্বর প্রদক্ষিণের পাশাপাশি পুজোও দেন তিনি। আজ রবিবার বদ্রীনাথ মন্দিরেও যাবেন মোদি। এজন্য বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

এদিকে শনিবার থেকেই ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোট পর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছে। প্রথম ৬ দফার ভোটে কোন দলের কেমন ফল হতে পারে সেটা অনুমান করে, জাতীয় কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলো ইতোমধ্যেই জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। গতকাল অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইড়ু দিল্লিতে সাক্ষাত্ করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। মহাজোট গড়তে গতকালই তিনি উত্তর প্রদেশে যান বিএসপি নেত্রী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতার সঙ্গে কথা বলতে। এতদিন বিজেপি এবং জাতীয় কংগ্রেস থেকে সম দূরত্বের নীতি নিয়েছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়েক। তিনিও তার অবস্থান থেকে সরছেন। ইতোমধ্যে কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে যে ঐক্য গঠনের স্বার্থে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পদে ছাড় দিতেও রাজি আছে তারা।

তবে সবার নজরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানে লোকসভা আসন ৪২টি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ৪২টি আসনেই জেতার। সেটা হলে ভারতীয় রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে অবতীর্ণ হবে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। কোনো দল যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় সেক্ষেত্রে জোট রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়বে মমতার। এরকম পরিস্থিতিতে বিজেপি, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিকল্প কোনো সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলে মমতাই হয়ে উঠতে পারেন সেই জোটের মুখ। এক্ষেত্রে দেশের সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে অ-বিজেপি এবং অ-কংগ্রেসি জোট গঠনে তত্পর হয়েছেন টিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও। ইতোমধ্যেই ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে চন্দ্রশেখরের।

বুথ ফেরত জরিপ ফাঁস নিয়ে তোলপাড়

ইন্ডিয়া টুডের ‘ফাঁস’ হওয়া বুথফেরত জরিপ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যানেলগুলো থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে। টাইমস নাউ-এর প্রধান সম্পাদক রাহুল শিবশঙ্কর ও রিপাবলিক চ্যানেলের অর্ণব গোস্বামী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার ইন্ডিয়া টুডের সঞ্চালক রাহুল কানওয়াল দর্শকদের বলছিলেন, আগামী ১৯ মে শেষ দফার ভোটগ্রহণের পর বুথফেরত জরিপ প্রকাশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে। সে সময় হঠাত্ করেই ক্যামেরা ঘুরে যায় তার পেছন দিকে থাকা এক কম্পিউটার স্ক্রিনে। ওই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বুথফেরত জরিপের ফলাফল। ফাঁস হওয়া জরিপের ফলাফলে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে, গতবারের থেকে ১৭৭টি আসন কমছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের। তারা পেতে পারে ১৭৭টি আসন। আর গতবারের তুলনায় ৭৬টি আসন বেড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে পারে ১৪১টি আসন। অন্যান্য দল ২২৪টি আসন পেতে পারে। তবে ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এটি জরিপের ডামি। তবে এই ডামি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা।

প্রজ্ঞা খুন করেছেন গান্ধীর আত্মাকে:কৈলাস সত্যার্থী

রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে মুখ খুলেছেন ভারতের নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থী। মহাত্মা গান্ধীর খুনি নাথুরাম গডসেকে নিয়ে বিজেপি নেত্রী সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গডসে গান্ধীর শরীরকে শেষ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রজ্ঞার মতো ব্যক্তিরা গান্ধীর আত্মাকে, ভারতের অহিংসা, শান্তি ও সহনশীলতাকে খুন করছেন। গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞা নাথুরাম গডসেকে এক জন ‘দেশপ্রেমিক’ বলেন। যদিও চাপে পড়ে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।