ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারের লোকসভা নির্বাচনেও উত্তর প্রদেশের বারানসি আসন থেকে লড়ছেন। গুজরাটে দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই বারানসি থেকে প্রার্থী হন মোদি। ওই নির্বাচনে তিনি ৩ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। ওই সময়ে ভারতের রাজনীতিতে চলছিলো মোদি জোয়ার। সেই জোয়ারে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারিয়েছিলেন সহজেই। ৫ বছর পর ফের একই আসনে বড় ব্যবধানে জয়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। এবার তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের অজয় রায় এবং মহাজোট প্রার্থী সমাজবাদী পার্টির শালিনী যাদব। আর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মোদির বিরুদ্ধে লড়ছেন ২৫ জন। ফসলের ন্যায্য দামের দাবিতে অন্ধ্র প্রদেশের ১০২ জন কৃষক মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। কিন্তু তাদের ৮৯ জনেরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদি যখন বারানসিতে প্রার্থী হন তখন এই আসনের ভোটাররা বলেছিলেন তারা মোদিকে নয় বরং ভারতের ভবিষ্যত্ প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিচ্ছেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি জোট করে অংশগ্রহণ করেছিল। বহুজন সমাজবাদী পার্টি লড়েছিল আলাদা। কিন্তু এবার জাতীয় কংগ্রেস লড়ছে এককভাবে। আর সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির জোট করে লড়ছে। এই জোট গতবারের চেয়ে এবার বড় পরীক্ষায় নরেন্দ্র মোদিকে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কিছু দিন আগেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে বারানসিতে বিরাট রোড শো করেন মোদি। এই আসনে মোদির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। তার সময়ে বারানসিতে উন্নয়নের জোয়ার হয়েছে। সব দিক বিবেচনায় ??এই আসনে মোদির জয় অনেকেটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছে বিজেপি। তবে বিরোধিরা বলছেন, মোদি জোয়ার এবার নেই। তাই এখনই কিছু নিশ্চিত নয়। গত নির্বাচনে জয়ের পর মোদি গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো গঙ্গা দূষণে জীর্ণ। এছাড়া অনেক প্রতিশ্রুতিই পূর্ণ হয়নি। ফলে মোদিকে বেগ পেতে হবে। তাই এবারের লড়াই মোদির জন্য সহজ পরীক্ষা নাকি অন্য কিছু তা আজই ভোটাররা নির্ধারণ করে দেবেন। আর তা জানা যাবে আগামী ২৩ মে।
