কী করে এলো

অ্যাডহেসিভ ও সুপারগ্লু

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৮
কোনো কিছু ভেঙে গেলে বা দুটি সামগ্রীকে একসাথে জুড়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রায়শই নানা ধরনের আঠা ব্যবহার করি। প্রয়োজন ভেদে এই আঠার ধরণ বা শক্তিতে যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি পার্থক্য রয়েছে এদের বাজারজাতকরণের ধরনেও। তবে অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি যে, কোনো কিছু জোড়া দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র কোনো উপকরণ ব্যবহারের এই চলটি কিন্তু শুরু হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় হাজার চারেক বছর আগ থেকে। বিশেষ করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা সে সময়কার নিদর্শনের মাঝে এমন অনেক মাটির পাত্র খুঁজে পেয়েছেন যেগুলো গাছের আঠালো রস দিয়ে জোড়া লাগানো। অন্যদিকে প্রাচীন গ্রিসের অধিবাসীরা যে ডিমের সাদা অংশ, রক্ত, হাড়, দুধ, মাখন বা সবজির মতো বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে আঠা বানাতে জানতো সেটিও প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। যদিও সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন অ্যাডহেসিভ বা গ্লু উত্পাদনের জন্য প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা প্যাটেন্ট হয় ১৭৫০ সালে ব্রিটেনে। এ ছাড়া এর কাছাকাছি সময়ে প্রাকৃতিক রাবার, প্রাণীর হাড়, মিল্ক প্রোটিন বা সিজনের মতো উপাদান ব্যবহার করেও আঠা উত্পাদন শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যদিও আজকের দিনে কোনো কিছু জোড়া দেওয়ার জন্য সবচেয়ে কাজের পণ্য হিসেবে যে সুপারগ্লুকে আমরা চিনি সেটির আবিষ্কার হয় আরও পরে, ১৯৪২ সালে। এ সময় কোডাকের রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে অপটিক্যাল ক্লিয়ার প্লাস্টিক তৈরির জন্য গবেষণা করছিলেন ড. হ্যারি কুভার। আর এই গবেষণারই এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন সায়নোএক্রিলেট নামের একটি যৌগ। যদিও মজার বিষয় হলো, খুব আঠালো বলে এটি ব্যবহার অসুবিধাজনক ভেবে সে সময় এ যৌগটি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাননি কুভার। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে ইস্টম্যান কোম্পানির সাথে কাজ করার সময় আবারও সায়ানোএক্রিলেট নামের এই যৌগটির দিকে চোখ পড়ে কুভার ও ফ্রেড জয়েনার নামের আরেক গবেষকের। তারা লক্ষ করেন যে, জয়েনার যখন রিফ্র্যাক্টোমিটার প্রিজমের মাঝখানে এই যৌগটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন তখন প্রিজমগুলো খুব দ্রুতই একটার সঙ্গে অন্যটা আটকে যাচ্ছে। যদিও মজার বিষয় হলো, জয়েনারও কিন্তু আঠা আবিষ্কারের জন্য এই যৌগটি বানাননি। বরং তার উদ্দেশ্য ছিল জেট ক্যানোপির জন্য তাপরোধী একটি পলিমার তৈরি। অবশেষে, পর পর দুটি ঘটনা দেখার পর কুভার সিদ্ধান্ত নেন যে, অন্য কোনো কাজে নয়, বরং শক্তিশালী আঠা হিসেবেই কাজে লাগানো যাবে সায়ানোএক্রিলিন নামের এই যৌগটিকে। আর এভাবেই গেল শতকের পঞ্চাশের দশকের একেবারে শেষভাগে বাজারে আসে আজকের দিনের শক্তিশালী অ্যাডহেসিভ হিসেবে পরিচিত সুপারগ্লু।