মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৬২ রোহিঙ্গা উদ্ধার

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ২২:২৬

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন ও উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ঘাট দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৬২ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় পাঁচ দালালকেও আটক করা হয়। গতকাল শনিবার ভোরে কোস্টগার্ড ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার ও আটক করে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।     

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, টেকনাফের সেন্টমার্টিন থেকে মালয়েশিয়া যাবার প্রস্তুতিকালে ১৭ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও পাঁচ দালালকে আটক করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর তীরে বোটের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। আটক পাচারকারীরা হলেন, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম এলাকার আমিন শরীফ (২৭), একই এলাকার মুহিউদ্দীন (৫১), আব্দুল খালেক (৩০), রামু উপজেলার রশিদ নগর সিকদার পাড়ার শওকত আকবর (৪৫) ও একই এলাকার মো. মোবারক (৩২)। 

কোস্টগার্ড টেকনাফের স্টেশন কমান্ডার লে. ফয়েজুল ইসলাম মন্ডল জানান, গভীর রাতে সাত নারী ও ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষ মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর জন্য সাগর তীরে অপেক্ষা করছিল। গোপন এই সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আটক দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া জেটিঘাট থেকে নারী ও শিশুসহ ৪৫ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। দালালচক্রের একটি দল আটক রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জেটিঘাটে নামিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে। খবর পেয়ে ভোরে পেকুয়া থানার এসআই মকবুলের নেতৃত্বে পুলিশ করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে।

পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান, ট্রলারযোগে সাগর পথে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। তবে ট্রলারটি জব্দ করতে পারিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।

স্থানীয় এহসানসহ আরো কয়েকজন জানান, রাতে জেটিঘাটে অনেক মানুষ দেখতে পেয়ে আমরা এগিয়ে যাই। তারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলে জানায়। তখন খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।