আলীমের আমৃত্যু কারাবাস

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৪
সংস্কারপন্থি বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের ফলে জীবনের শেষ দিনগুলো কারাগারেই কাটাতে হবে আলীমকে। যদিও রায়ে বলা হয়েছে, আলীম যে মাত্রার অপরাধ করেছেন, তাতে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কিন্তু তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আলীম বর্তমানে পক্ষাঘাতগ্রস্থ (প্যারালাইসিস)। গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার পর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধকালে ২৬ এপ্রিল মেজর আফজাল ও অন্যদের নিয়ে কড়ই কাঁদিপুর এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের বাড়িঘরে লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ৩৭০ জন হিন্দুকে হত্যার ২ নম্বর, একাত্তরের মে মাসে ১০ জনকে খঞ্জনপুর কুঠিবাড়ি ঘাট এলাকায় নিয়ে হত্যার ৮ নম্বর, জুনের শেষদিকে জয়পুরহাট কলেজে নিয়ে ২৬ জনকে হত্যার ১০ নম্বর এবং পাহাড়পুরে আহত মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিমসহ আরও দুইজনকে হত্যার ১৪ নম্বর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একাত্তরের মে মাসের প্রথমদিকে আক্কেলপুরের কোকতারা গ্রামের বকুলতলা এলাকায় নয়জনকে হত্যার ৬ নম্বর, ২৬ মে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার নওদা গ্রামের চারজনকে কালী পুকুরের পাশে নিয়ে হত্যার ৭ নম্বর, একাত্তরের ১৪ জুন পশ্চিম আমাত্রা গ্রামে নিয়ে ১৫ যুবককে নির্যাতন করে হত্যার ৯ নম্বর অভিযোগ এবং ২৬ জুলাই ডা. আবুল কাশেমকে হত্যার ১২ নম্বর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে একক দণ্ড হিসেবে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া একাত্তরের ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার দমদমা গ্রামের মেহের উদ্দিন চৌধুরীর (মৃত) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে দেশান্তর করার ১ নম্বর অভিযোগে আলীমকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এই দণ্ড ভোগ করলে তাকে দেয়া ১০ ও ২০ বছরের সাজা স্বাভাবিক নিয়মে একীভূত হয়ে যাবে। তবে আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ৮ অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় তাকে এসব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার ও পাঁচ নম্বর অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। বাকি ৩, ১১, ১৩, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করলেও এসব ঘটনার সঙ্গে আলীমের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। এদিকে, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও ন্যায় বিচার না পাওয়ার দাবি জানিয়ে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে আসামির আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা। রায়ের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, সে বিষয়ে মন্তব্য করছি না। পূর্ণাঙ্গ রায় দেখার পর এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, আলীম যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যুক্ত ছিলেন তা এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী এডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অবশ্যই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে। অন্যদিকে, আলিমের ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম বলেন, আমার বাবা নিরপরাধ জয়পুর হাটের ইট, বালু, কণাও জানেন। একাত্তর সালে আমার বাবা জয়পুরহাটে ছিলেন না। সাক্ষীরা আদালতে এসে মিথ্যা ও কাল্পনিক স্বাক্ষী দিয়ে গেছেন। আমরা আপিল করবো। উচ্চ আদালত থেকে এর সুষ্ঠু সমাধান পাবো বলে আশা করছি। গতকাল আবদুল আলীমের রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালসহ সুপ্রিম কোর্টের আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাস কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। তবে রায় ঘোষণার অন্য দিনের মতো এজলাস কক্ষে বেশি লোক ছিল না। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আবদুল আলীমকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে আসামির কাঠগড়ায় আনা হয়। ট্রাইব্যুনালে আবদুল আলীমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার দুই ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম ও খালিদ বিন আলীম উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন বিচারপতি ট্রাইব্যুনালে আসেন। রায় পড়া শুরুর আগে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আজ আলীমের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। রায়টি ১৯১ পৃষ্ঠার। তবে এটি সংক্ষিপ্ত আকারে পড়া হবে। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে অন্যান্য আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, সম্পূর্ণ রায় না পড়ে মনগড়া মন্তব্য করবেন না। এটা আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর। এরপর রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারপতি মো.শাহিনুর ইসলাম। দ্বিতীয় অংশ পড়েন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। চূড়ান্ত অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। দুপুর পৌনে ১টার দিকে রায়ের সারাংশ পড়া শেষ হয়। রায়ে বলা হয়, কনভেনশন মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে জয়পুরহাটে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর উপর আলীমের কর্তৃত্ব ছিল। এছাড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের উপর তার প্রভাব ছিল। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অষ্টম এবং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর পঞ্চম রায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে তিনটি ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এসব রায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আর জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ৯০ বছর ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বর্তমানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে শুনানি চলছে। এছাড়া চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমাণ রয়েছে। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় কারাদণ্ড রায়ে বলা হয়, যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাস গুপ্ত ও তুরিন আফরোজ বলেন, আবদুল আলীম তার এলাকার একজন শিক্ষিত লোক ছিলেন। তিনি মানুষের মর্যাদা ও মানব সভ্যতার বিষয়ে সচেতন ছিলেন; কিন্তু এর পরও তিনি ‘ক্রাইম কম্পাস’ হিসেবে একাত্তরে কাজ করেছেন। ঐ সময়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লোক থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী লোকও তাদের হামলা থেকে রক্ষা পাননি। তার কাজ ও আচরণের মাধ্যমে অনেক মানুষের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। শুধু নিরস্ত্র মানুষ নয়, সমগ্র মানব সভ্যতার উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার কারণে আবদুল আলীম সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতীতভাবে মনে করে, সাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভিকটিমদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হওয়া জরুরি; কিন্তু আসামি আবদুল আলীমের বর্তমান বয়স ৮৩ বছর। তার শারীরিক অবস্থাও নাজুক। তার শারীরিক অবস্থা বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা ডকুমেন্টে দেখা যায়, তিনি নিজে হাঁটতে পারেন না। হুইল চেয়ারে করেই তার চলাফেরা করতে হয় এবং তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। এ ধরনের অবস্থায় তার সাজার পরিমাণ কিছুটা উপশম করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বলা হয়, এক্ষেত্রে কিছু বিষয় জেনে রাখা দরকার যে, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে চারটি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের কারাদণ্ডকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কম বলে জানিয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অভিযুক্তকে যেকোন শাস্তি দিতে পারে। যাহোক, বার্ধক্য, শারীরিক অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার মতো ব্যতিক্রম বা কদাচিত্ বিষয়গুলো শাস্তি মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হয়। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে বার্ধক্য ও বার্ধক্যজনিত সমস্যার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অবশ্যই সামনে আসবে। কারণ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ কারো ফাঁসি হওয়া উচিত নয়। অভিযুক্ত আবদুল আলীম তা পরিকল্পিত নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যে কারণে শত শত মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে; কিন্তু তার প্রত্যক্ষ শারীরিক বৈকল্যের বিষয়টি অবজ্ঞা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে- আইন এতোটা দয়াহীন হতে পারে না। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হওয়া ২, ৮, ১০ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়; কিন্তু আমরা তার শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টিতে বিবেচনাহীন আচরণ করতে পারি না। যাহোক, ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত আবদুল আলীম বিচারের আগে ও পরে কখনো অনুতপ্ত আচরণ দেখাননি। সকল দিক বিবেচনা করে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের বদলে উপশমমূলক শাস্তি প্রদানে একমত হয়েছি। আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে ২, ৮, ১০ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক দণ্ড হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে। আইনের ২০(২)-এর ধারা অনুযায়ী স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাগারেই থাকবেন। আদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, এই দণ্ড ভোগ করলে তাকে দেয়া ১০ ও ২০ বছরের সাজা স্বাভাবিক নিয়মে একীভূত হয়ে যাবে। আইনজীবী ছিলেন যারা রাষ্ট্রপক্ষে আবদুল আলীমের মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাস গুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, মোকলেছুর রহমান বাদল, তুরিন আফরোজ, সাবিনা ইয়াসমিন খান, তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান, এএইচএম আহসানুল হক হেনা, তাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম।