এবছর রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী মার্টিন কারপ্লাস, মাইকেল লেভিট এবং অ্যারিয়ে ওয়ারসেল। এদের উদ্ভাবিত কৌশলে কম্পিউটারে আগাম অনুমান করা যাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলাফল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
আমাদের চারপাশে নানারকম পরিবর্তনের মূলে আছে রাসায়নিক বিক্রিয়া। এবং সে সব বিক্রিয়া প্রায়শ জটিল। অণুতে-অণুতে বা পরমাণুতে-পরমাণুতে যে আকর্ষণ-বিকর্ষণ চলে, তা কম্পিউটারে নকল করে দেখার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন ওই তিন বিজ্ঞানী। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত কৌশল কাজে লাগবে নানা ক্ষেত্রে। তা সে মানবদেহে ওষুধের প্রয়োগ হোক কিংবা ইঞ্জিন চালিত যানের ক্ষমতা বাড়ানো হোক। গবেষকেদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কম্পিউটারের সাহায্যে রসায়নের জটিল ও রহস্যময় প্রক্রিয়ার মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাষ্য, রসায়নকে সাইবার-জগতে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্বের জন্যই তাদের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
একসময় কাঠির সঙ্গে রঙিন প্লাস্টিক বল জুড়ে জুড়ে অণুর মডেল তৈরি করতেন বিজ্ঞানীরা। আর এখন কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে জটিল সব রাসায়নিক বিক্রিয়ার আণবিক মডেল আমাদের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে, যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৭০ এর দশকে। এবারের নোবেল বিজয়ীরা কম্পিউটার ব্যবহার করে রসায়নের সেই রহস্যময় জগতের মানচিত্র আঁঁকার কাজটি সম্ভব করেছেন সে সময়। বিবৃতিতে বলা হয়, আজকের পৃথিবীতে রসায়নের যে অগ্রযাত্রা, তার পেছনে এই কম্পিউটার মডেলিংয়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার এখন একজন রসায়নবিদের কাছে টেস্টটিউবের মতোই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সরঞ্জাম। এখনকার কম্পিউটার সিম্যুলেশন এতোটাই বাস্তবের কাছাকাছি যে, গবেষকরা কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেই গবেষণার সম্ভাব্য ফল সম্পর্কে প্রায় নিখুঁত পূর্ভাবাস পেতে পরেন। ১৯৩০ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জন্ম নেয়া মার্টিন কারপ্লাস অধ্যাপনা করছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাইকেল লেভিট ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করেন। এখন তিনি কাজ করছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে। আর ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণকারী আরিয়ে ওয়াশেল ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় অধ্যাপনা করছেন।
