রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দুই দলের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে আলোচনায় বসার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অতীতে মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা হলেও তা কখনো ফলপ্রসূ হয়নি। তাই সত্যিকার অর্থে সংকট নিরসন চাইলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আলোচনায় বসতে হবে।
সোমবার চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই দলের মহাসচিব ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংলাপ চেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম জানান, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত এপ্রিল মাসে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার হটকারিতার জন্য সেদিন আলোচনার সম্ভাবনা নস্যাত্ হয়ে গিয়েছিল। দেশে জামায়াত-শিবির ও হেফাজত নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। এরপরেও আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে বৈঠক হলে হয়তোবা সমাধান হতে পারে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, অবশ্যই আমরা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চাই। খালেদা জিয়ার এ প্রস্তাব বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক দিক। তবে সংলাপ হতে হবে সংবিধান অনুযায়ী।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া জানান, আমরা সংলাপ চাই। কারণ সংলাপের মাধ্যমেই সকল সংকট নিরসন করা যায়। তবে বিরোধী দলের কাছ থেকে সংলাপের প্রস্তাব আসতে হবে গঠনমূলকভাবে। তিনি বলেন, আলোচনা কিংবা সংলাপ সংবিধানের মধ্য থেকে হতে হবে।
কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ জানান, বিরোধী দল বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করলে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে। এ কারণে তারা সংলাপে বসতে চাচ্ছে। তবে সংবিধান মেনেই সংলাপ হতে হবে।
গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম জানান, সংলাপের কোন বিকল্প নেই। তবে সংবিধানকে উপেক্ষা করে সংলাপ হলে সংকটের কোন সমাধান হবে না।
