মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেই হাজীরা আল্লাহর পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে পেয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অন্তরে এক অনাবিল শান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করেন। আসলে আল্লাহ তা’আলা এ স্থানটিকে গোটা মানবজাতির জন্য নিরাপদ করেছেন। এই পরিস্থিতিটি হাজীদের হূদয়ে পুনরুত্থান দিবসের সেই নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যা মানুষকে সত্যের পথে চেষ্টা-সাধনা করে অর্জন করতে হয়। হজ্ব পালনের সময় হাজীরা বিশ্বাসের দিক থেকে আল্লাহ’র নির্দেশিত সীমাকে কখনো লঙ্ঘন করেন না। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার সময় হাজীদের মনে হয় মানবজাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) কে, তাঁদের মনে পড়ে যায় কিভাবে মহান আল্লাহর নির্দেশে এই কা’বাকে হযরত ইব্রাহিম (আ.) সমগ্র মানব জাতির নিরাপত্তার স্থান হিসাবে ও হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছিলেন।
বায়তুল্লাহ ও মসজিদুল হারামের ফযিলত সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চই মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে সেই ঘর যা মক্কায় অবস্থিত (বায়তুল্লাহ)। এর অবস্থা এই যে তা বরকতপূর্ণ এবং সমগ্র বিশ্বাসীর জন্য পথপ্রদর্শক’ (পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরান)। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের অতি নিকটবর্তী সময় ইয়াজুজ-মাজুজ দলের আবির্ভাবের পরও বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্ব এবং ওমরা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল্লাহর হজ্ব সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত তথা মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে না।’
হাজীদের আগামী দু’দিনের মধ্যে মদীনার মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ তাদেরকে ৭ জিলহজ্ব সূূর্যাস্তের পূর্বেই মক্কায় উপস্থিত হতে হবে। সূর্যাস্তের পরই শুরু হয়ে যায় হজ্বব্রত পালনের আনুষ্ঠানিকতা এবং শেষ হয় ১২ জিলহজ্ব সূর্যাস্তের মধ্যদিয়ে। জিলহজ্ব মাসের ৮ তারিখ ফজরের নামাজের পরই শুরু হয় হজ্বের মূল কাজ। সকল হাজীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়াননিমাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাকা’।
হাদিসে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আ.) যখন দুনিয়াতে এসে মিনায় উপস্থিত হন, তখন চির শত্রু শয়তান তাঁর সামনে হাজির হয়। আদম (আ.) পাথর দিয়ে হামলা করলে শয়তান দ্রুত পালিয়ে যায়। আবার আল্লাহর হুকুমে হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের পুত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ.) কে মিনায় কুরবানি দিতে প্রস্তুত হলে, শয়তান এসে বাগাড়ম্বর বাধায়। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পাথর মেরে শয়তানকে তাড়িয়ে দেন। শয়তানকে পাথর মারার স্থানগুলোকে চি?িহ্নত করার জন্য পরবর্তীকালে সেখানে তিনটি পাথরের স্তম্ভ তৈরি করা হয়। এগুলোর নাম প্রথম জামারা, মধ্যম জামারা ও বড় জামারা।
