সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার ছোটগল্পকার এলিস মুনরো। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি নোবেল বিজয়ী হিসেবে এই সাহিত্যিকের নাম ঘোষণা করে। সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব পিটার ইংলুন্ড ঘোষণাকালে মুনরোকে সমকালীন ছোটগল্পের মাস্টার বলে আখ্যায়িত করেন। তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় কানাডার গণমাধ্যমকে মুনরো বলেন, আমি জানতাম আবার ফিরে আসছি, কিন্তু আমি ভাবিনি এ পুরস্কার জিততে পারবো। খবর বিবিসির।
কিশোর জীবন থেকেই মুনরোর লেখালেখির জীবন শুরু হয়। ১৯৫০ সালে তার প্রথম গল্প দ্য ডাইমেনশন অব এ শ্যাডো প্রকাশিত হয়। ঐ সময়ে তিনি ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশুনা করছিলেন। মুনরোর প্রথম সংকলিত গ্রন্থ ১৯৬৮ সালে তার ড্যান্স অব দ্য হ্যাপি শেডস প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের জন্য তিনি কানাডার সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার গভর্নর জেনারেল’স এওয়ার্ড লাভ করেন। ২০০৯ সালে তিনি তার সমগ্র সাহিত্য কর্মের জন্য ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ৮২ বছর বয়সী মুনরোর লেখা বইয়ের মধ্যে অন্যতম হলো ডিয়ার লাইফ, ড্যান্স অব দ্য হ্যাপি শেডস।
নোবেল পাওয়ার কথা মুনরোর মেয়ে প্রথম তাকে জানান। এ কথা শুনে মুনরো অবাক হন। পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সাহিত্য জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি শেষে চলতি বছর মুনরো ঘোষণা দেন তিনি আর কলম ধরবেন না। ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘ডিয়ার লাইফ’ হবে তার শেষ গ্রন্থ। উল্লেখ্য, জন স্টাইনবেক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, পাবলো নেরুদার মতো সাহিত্যিকরা বিভিন্ন সময়ে বিশ্বসাহিত্যের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান চীনের মো ইয়েন।
আর ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন নারী সাহিত্যে পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার পাবেন তিনি। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।
