জীবনে একবার হজ্ব করা ফরজ। কেউ যদি একাধিকবার হজ্ব করেন তবে তা নফল হবে এবং অনেক বেশি ছওয়াব পাবে। কারো উপর হজ্ব ফরজ হলে সে বছরই আদায় করা ওয়াজিব। বিনা কারণে দেরি অর্থাত্ সময় আছে পরে করা যাবে এমন ধারণা নিয়ে হজ্বব্রত পালন থেকে বিরত থাকা সঠিক নয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যে হজ্ব করেছে। হজ্ব আদায় করার সময় অশ্লীল কথা বলেনি কিংবা অশ্লীল কাজ করেনি। সে হজ্ব থেকে নিজের ঘরে ফিরবে সেদিনের মত নিষ্পাপ হয়ে, যেদিন তার মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে এসেছিলো। (বুখারী শরীফ)
জিলহজ্ব মাসের ৮ তারিখ রাতের মধ্যেই হাজীরা আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। পরদিন ৯ জিলহজ্ব ফজরের নামাজের পর পূর্বের আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পরই মিনা থেকে লাখ লাখ হাজী আরাফাতের পথে রওয়ানা হন। মিনা থেকে আরাফাতের ময়দান পর্যন্ত গোটা পথে শুধু সাদা আর সাদা। হাজীদের পরনের ইহরাম দিনের আলোতে এমন দৃশ্য ছাড়া আর কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না। একইদিন আরাফাতের ময়দানে তাঁবুতে অবস্থানকারী হাজীদের তাঁবুর মধ্যেই জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করতে হয়। আর আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরায় যেসব হাজী যান তাদেরকেও জোহর ও আসরের নামাজ জোহরের ওয়াক্তে একসাথে আদায় করে নিতে হয়।
জিলহজ্বের ৯ তারিখ হাজীদের আরাফার ময়দানে রাত যাপন করতে হয়। এদিন ফজর থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর হাজীরা তাকবিরে তাশরিক পড়েন। অবশ্য সৌদি আরবে অবস্থানরত হজ্বব্রত পালনকারী হাজীরা ছাড়াও বিশ্বের সকল মুসলমানকে ঈদ-উল-আযহার নামাজ আদায়ের পর থেকে তিনদিন পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। অর্থাত্ ‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ’।
হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইয়াত্তমে আরাফার দিন হাজীরা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে জীবনে যা গুনাহ করেছেন তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মোনাজাত করেন। সে সময় আল্লাহ ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, ‘হে আমার ফেরেশতারা এই আলুতালু বেশ এবং এলোমেলো কেশ এরা কী চায়?’ আল্লাহর প্রশ্নের জবাবে ফেরেশতারা বলেন, ‘হে আল্লাহ এরা গুনাহ্ থেকে মুক্ত হতে চায় এবং আপনার সান্নিধ্য নিয়ে বেহেশতে যেতে চায়’। তখন আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার ফেরেশতারা তোমরা সাক্ষী থেকো এই হাজীদের আমলনামায় যদি সমুদ্রের ফেনা সমতুল্য এবং জমিনের গাছপালা, তরুলতা এমনকি বালুর একটি ক্ষুদ্র কণা পরিমাণও গুনাহ থেকে থাকে আমি আল্লাহ মাফ করে দিলাম।’
