চাকরি বিধিমালার কোন রকম তোয়াক্কা না করেই সুইডেনভিত্তিক একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশ অফিসের কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। আর ছাঁটাই করা কর্মকর্তাদের স্থানে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ভারতীয় ও শ্রীলংকানদের। অনেক ক্ষেত্রে এদেশের কর্মকর্তাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি বেতন দেয়া হচ্ছে বিদেশিদের। এতে একদিকে যেমন ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অন্যদিকে দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, কোন রকম পূর্বঘোষণা (নোটিস) বা কারণ দেখানো ছাড়াই এ পর্যন্ত বিভিন্ন পদের ১২ জনকে ছাঁটাই (টারমিনেট) করেছে ঢাকা নগরীর গুলশানে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠান। ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাঁটাইয়ের কারণ জিজ্ঞেস করেও জানতে পারছেন না। ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এদেশের প্রধানের (কান্ট্রি ম্যানেজার) কাছে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হলেও এ বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি। এ বিষয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ তার কাছে চিঠি দিলেও সেটিরও কোন জবাব দেননি তিনি। এমনকি বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এবিষয়ে একটি সভার আহ্বান করলেও তাতেও তিনি হাজির হননি। কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রতিষ্ঠানে এমন অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে যাদের কেউ কেউ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। এছাড়া প্রভিশন প্রিরিয়ড শেষ হওয়ার মাত্র দুদিন আগে দুজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা তা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানটি অন্যতম। সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, পোলান্ড ও চেক রিপাবলিকে তাদের মূল ব্যবসা। এসব দেশে এ প্রতিষ্ঠানে ৪০০ টি স্টোর ও সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য পোশাক বিক্রেতা এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৪ সালে।
