কাউখালীর সুপারি বাজারে ধস

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১০
পিরোজপুরের কাউখালীর স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম বুনিয়াদ সুপারি বাজারে ব্যাপক হারে ধস নেমেছে। গত মৌসুমে খরার কারণে সুপারির উত্পাদনে ব্যাপক ঘাটতি আর বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা মোটা অংকের লোকসানের সম্মুখীন হন। তখন ভালো মানের এক কুড়ি (২১০টি) পাকা সুপারির দাম ছিল ৪০০ টাকা। বর্তমানে যা মাত্র ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সব গ্রেডের সুপারির দামও অর্ধেকে নেমে যায়। কাউখালী দক্ষিণ বাজার, উত্তর বাজার, নতুন বাজার, হোগলা বেতকা, পোলের হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে সুপারির মূল্যহ্রাসের এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত মৌসুমে বাজারে সুপারির দাম হঠাত্ কমে যাওয়ায় কাউখালীর কয়েক হাজার সুপারি চাষি ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, সমপ্রতি ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিদেশি সুপারি আমদানির কারণে দেশীয় সুপারির দাম কমে গেছে। উপজেলার চাষিরা বিদেশ থেকে সুপারি আমদানি বন্ধ করে দেশীয় চাষিদের বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির চাষ হয়। খরা ও সুপারি পুষ্ট হওয়ার সময় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথমদিকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সুপারি বাগানগুলোয় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সে কারণে সুপারির ফলন তুলনামূলক এ বছর অনেক কম হয়েছে। অন্যান্য বছর উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন সুপারি উত্পাদন হলেও চলতি বছর উত্পাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাউখালীর জয়কুল গ্রামের সুপারি চাষি সেলিম মিয়া, জয়কুল গ্রামের আলী হোসেন, সালাহউদ্দিন, নতুন বাজার এলাকার বারেক হাওলাদার, মীর নাসিরসহ অনেকে জানান, চলতি বছর ব্যাপক খরার কারণে সুপারি যেমন পুষ্ট হয়নি, তেমনি উত্পাদনও অনেক কম হয়েছে। চাষিরা জানান, বর্তমানে পিক সিজনে বাজারে সুপারির যে দাম, তাতে তাদের চাষ, আহরণ ও পরিচর্যা করে যে খরচ হয়, তাও উঠছে না। তারা এখন সুপারি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।