পঞ্চগড়ে দিন দিন কমলার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার কমলার ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। এখানকার কমলা স্বাদে ও গন্ধে ভারতের কমলার মত। কৃষি বিভাগের কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চারা বিতরণ করায় অনেক বাড়িতে এখন কমলা চাষ করছে। তবে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মত পরামর্শ পাচ্ছেন না তারা। পোকা কাটায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চগড় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি কমলা চাষের উপযোগী। মাটিতে অম্লের (পি, এইচ) পরিমাণ সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ পর্যন্ত থাকলে ওই জমি কমলা চাষের উপযোগী। পঞ্চগড়ের জমি ওই মানের ও উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু শ্রেণীর এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২ হাজার ৫’শ থেকে ৩ হাজার মিলিমিটার। এ ধরনের জলবায়ু কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
এক সময় জেলার কয়েকজন চাষী শখের বসে বাড়ির উঠানে কমলার চারা রোপণ করে। কয়েক বছর পর এসব কমলা গাছে ধরে সুস্বাদু কমলা।
জেলার কৃষকদের কমলা চাষে আগ্রহ দেখে পঞ্চগড় জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর উন্নত কমলা চাষ প্রকল্প হাতে নেয়। ২০০৬ সালে ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী ও বোদা উপজেলার ৫৪০ জন চাষিকে কমলা চাষের জন্য প্রশিক্ষণ দেয় তারা। এই প্রকল্পের আওতায় জেলায় ৪ হাজার ৮শ’ ৮৮টি কমলার চারা লাগানো হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড়ের হাফেজ মোঃ মজিবর রহমান, তেঁতুলিয়ার মখলেছার রহমান, আটোয়ারীর পানিশাইল গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ এবং বোদা উপজেলার সর্দ্দারপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম প্রত্যেকে ৬৬ শতক জমিতে কমলা চারা রোপণ করেছেন। এসব কমলা চাষির প্রত্যেককে ১৭০টি করে চারা জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সরবরাহ করেছে। জেলা কৃষি অফিসের ৩০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকেও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ৫ বছর মেয়াদী ওই প্রকল্প শেষ হয় ২০১১ সালে। এর পর আর কেউ চাষিদের লাগানো কমলা গাছ দেখতে যাচ্ছেন না। খোঁজ খবর না নেয়ায় অনেকে ঠিকমত গাছের যত্নও নিচ্ছেন না। গাছে বিভিন্ন ধরনের পোকা আক্রমণ করছে। এ সমস্যা প্রতিকারের জন্য সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন না কৃষকরা। কমলা যেন টক না হয় এজন্য সিলভাম্যাক্স নামক ট্যাবলেট অফিস থেকে দেয়া হতো। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চাষীরা আর কোন ট্যাবলেট পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, একটি প্রকল্পের অধীনে এসব কমলা চারা লাগানো হয়েছিল। কমলা গাছে প্রচুর পোকার আক্রমণ হয়। সময়মত গাছে ওষুধ দিতে হয়। আমরা মাঠে গেলে তাদের কি ধরনের ওষুধ দেয়া যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ ছাড়া আগামীতে কমলাজাতীয় ফল নিয়ে আরো একটি প্রকল্প আসছে। এই প্রকল্পটি আসলে কৃষকরা সব সময় তাদের পরামর্শ পাবেন।
