খুলনা মহানগরীর জন্য পানি আনা হচ্ছে মধুমতি নদী থেকে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১১
খুলনা মহানগরীর পানির সংকট নিরসনে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার মধুমতি নদী থেকে পানি আসছে। মধুমতি নদী থেকে প্রতিদিন এক লাখ ১০ হাজার ঘনমিটার পানি উত্তোলন করা হবে। মধুমতি নদী থেকে পানি আনার জন্য নৌ কর্তৃপক্ষ দুটি শর্তে সম্মতি দিয়েছে। এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণারত শিক্ষার্থীরা মধুমতি নদী থেকে পানি আনার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এ নদীর পানির লবণাক্ততা বেশি থাকে। খুলনা ওয়াসা সূত্র জানায়, খুলনা জেলা সৃষ্টির ১২৯ বছর পর পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন নগরীর ১৫ লাখ অধিবাসীর জন্য প্রতিদিন ২ কোটি ৪০ লাখ লিটার পানির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ওয়াসা অর্ধেকেরও কম, মাত্র ৯৫ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করছে। ঘাটতি থেকে যাচ্ছে এক কোটি ৪৫ লাখ লিটার। লোডশেডিংয়ের কারণে এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩১ বছর আগে স্থাপিত নলকূপগুলোর অধিকাংশেরই উত্পাদন ক্ষমতা কমে গেছে। স্থায়ীভাবে এ সংকট নিরসন কল্পে ওয়াসা ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে জাইকা ১৮৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার, এডিবি ৭৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ও সরকার ১০৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার যোগান দেবে। সূত্র জানায়, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের মধ্যবর্তী মধুমতি নদী থেকে পানি এনে শোধন করা হবে। পানি আনার জন্য ওয়াসা গত ২৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চায়। নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের খুলনাস্থ পরিবহন ও বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক একেএম শাহজাহান হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামাল হোসেন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মধুমতি নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং নৌ চলাচলে বাঁধা হবে না এই দুই শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে মধুমতি নদী থেকে পানি উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন এখান থেকে এক লাখ ১০ হাজার ঘনমিটার পানি দেয়া সম্ভব হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিউম্যানিটি ওয়াচের প্রধান নির্বাহী মেহেদী হাসান বলেন, জাইকা তার জরিপে উল্লেখ করেছে ২০ বছর পর মধুমতির পানির লবণাক্ততা বাড়বে। তাহলে এ প্রকল্পের ভবিষ্যত্ কি হবে। সামপ্রতি এক সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর দিলীপ কুমার দত্ত উল্লেখ করেন, নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত মধুমতির পানির লবণাক্ততা বেশি থাকে। ফলে এই পানি শোধন করতে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়বে। তিনি বলেন, এমনিতেই ভুগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া নগরীতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের পরিমাণ কম। এই সেমিনারে একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক কুশল রায় বলেন, মধুমতি নদী থেকে পানি এনে বিশুদ্ধ করতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। বিষয়টি সম্পর্কে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণারত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। প্রকল্প সম্পর্কে ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ভু-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা এলাকায় সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় নগরীতে ৭শ’ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিটি হোল্ডিংয়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ২০১৭ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ হবে। তিনি জানান, মোল্লাহাট উপজেলার গারফা মৌজা থেকে খুলনা নগরী পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইনসহ এ প্রকল্পের ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই মধুমতি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি আনার কার্যক্রম শুরু হবে।