দেশে সর্বপ্রধান ধর্মীয় উত্সব ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হবে আর মাত্র তিনদিন পর, আগামী ১৬ অক্টোবর, বুধবার। ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে গত কয়েকদিন থেকেই সারাদেশে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে জমে উঠেছে এসব পশুর হাট। রাজধানী ঢাকার বাইরে বিভাগীয় মহানগরী এবং অন্যান্য নগর-মহানগর, জেলা শহর, উপজেলা সদর ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পশু ও হাট-বাজারে এখন জমজমাট গরুর হাট। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, সীমান্তবর্তী জেলা ও সেখান থেকে নৌ ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এসে জমা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় গরু এবং এসব ভারতীয় গরু প্রধানত চোরাচালান হয়ে আসছে, যার বিপরীতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না রাজস্ব। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই এই চোরাচালান প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ বলে সকলের বিশ্বাস। দেশের প্রায় সকল স্থানেই কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবারো। বিশেষভাবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য। তবে দেশীয় জাতের গরু এবং দেশীয় ছোট আকারের গরু বা ছোট ষাঁড় গরুর চাহিদা সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারো কোরবানির হাটে এই জাতীয় দেশি গরুর উপস্থিতি লক্ষণীয়। ক্রেতারাও বিশেষ উত্সাহ দেখাচ্ছেন এসব দেশীয় জাতের গরুর প্রতি। এবারে পশুর হাটে দাম তুলনামূলকভাবে কম। সে কারণে গরু ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা ব্যবসা-মন্দার দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। চোরাচালান হয়ে আসা ভারতীয় গরুর সামনে অসম এবং ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন দেশীয় গরু খামারি ও ছোট পশু পালকরা। ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের এখন পিক আওয়ার চলছে। ঈদের আর মাত্র ৬ দিন বাকি থাকায় ক্রেতারা যেমন ছুটছেন বিভিন্ন পশুর হাটে তেমনি বিক্রেতারাও কাঙ্ক্ষিত লাভের আশায় তাদের পশু নিয়ে ছুটছেন হাটগুলোতে। ক্রেতা-বিক্রেতার চাপে পশুর হাটগুলোও জমে উঠেছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১’শটি পশুর হাট বসেছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই আর জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই দেদারছে আসছে ভারতীয় গরু। সীমান্ত এলাকা গলিয়ে দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন হাট-বাজারে মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে ওইসব গরুর। এসব গরু কোনপ্রকার রাজস্ব ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ফ্রি-স্টাইলে আসছে। এর মধ্যে রোগাক্রান্ত গরু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হলেও বিষয়টি নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরুর প্রতিযোগিতায় হুমকির মুখে পড়ছে দেশি গরু। ফলে এবার হাজার হাজার গবাদি পশু খামারির লোকসানের মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুধবার রংপুরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট লালবাগ হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ হাজার গরু ও ছাগলের আমদানি হয়েছে। একটি গরুর সর্বোচ্চ দাম হাঁকা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ক্রেতা ৯০ হাজার টাকা দাম বললে গরুর মালিক আব্দুল হাই ওই দামে বিক্রি করতে নারাজ। হাটে প্রকারভেদে গরু কেনাবেচা হয়েছে ২৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গরুর হাটে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা হাজার হাজার গরু-মহিষের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব গরু করিডোর রাজস্ব না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ গরুর হাট, নীলফামারীর চিলাহাটি দিনাজপুর জয়পুরহাট, রাজশাহী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেদারছে গরু এনে জড়ো করা হচ্ছে। সরেজমিনে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার হাট সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার বসে। এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চারদিকে ভারতবেষ্টিত। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অবৈধভাবে দিনে ও রাতে আসছে ভারতীয় গরু ও মহিষ। একজন গরু ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতি হাটে পুলিশ ও বিজিবিকে গরু প্রতি ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা দিতে হয়। পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, বুড়িমারী, আমবাড়ী, খেংটি, ধবলসতী, জিমনাল, জোংড়া, নাজির গোমানী, বাউড়াসহ উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার ভারতীয় গরু-মহিষ অবাধে বাংলাদেশে আসছে। অসাধু ব্যবসায়ী পুলিশ ও বিজিবিকে ‘ম্যানেজ’ করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন হাটে এসব গরু চালান দেয়া হয়। শুধু পাটগ্রাম পৌরসভার রসূলগঞ্জ গরুর হাটে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার গরু বিক্রি হয়। সরকারি করিডোর হয় নামমাত্র ২৫ থেকে ৩০টি।
লিটন বাশার, বরিশাল অফিস জানান, জমে উঠেছে এখানকার কোরবানির পশুর হাট। নগরীর হাটগুলো দেশি গরুর দখলে। ভারতীয় গরুর সংখ্যা কম হলেও দেশের সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যে গরু কোরবানির হাটে এসেছে তার দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। দাম বেশি হাঁকার ব্যাপারে পাইকাররা জানান, সীমান্ত থেকে বরিশাল পর্যন্ত গরুভর্তি ট্রাক নিয়ে আসতে পথে পথে মাস্তান ও পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটি ট্রাক বরিশালে পৌঁছতে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
সিটি কর্পোরেশনের ৫টি নির্ধারিত গরুর হাটের বাইরে ছোট-বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ২০টি গরুর হাট বসেছে। এসব হাটে অতীতে ভারতীয় গরুর একচেটিয়া দাপট ছিলো। এবার ভারতীয় গরুর দেখা না মেলায় দাম বেড়েছে দেশি গরুর। পশুর হাটে দেশি গরুর উপস্থিতি ভালো থাকলেও মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকার পাশাপাশি খামারিদের কাছ থেকে চড়া দামে গরু ক্রয় করতে হচ্ছে। এছাড়া কুষ্টিয়াসহ সীমান্ত থেকে গরু আমদানি করতে পথে পথে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের দফায় দফায় চাঁদা দিতে হয়। ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। তার উপর গত সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাইকাররা গরু এনে তা কোরবানির বাজারে বিক্রি করতে পারেননি।
নগরীর বাঘিয়া মহামায়া কাশিপুর হাটের পাইকার মো: রাসেল হাওলাদার ইত্তেফাককে জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে গরুর বড় চালানটি নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সাথে সাথেই আলমডাঙ্গা অতিক্রম করতে পুলিশ ও স্থানীয় হাটের ইজারাদারকে দিতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। এরপর পথে পথে আরো কয়েকটি স্থানে মাস্তান ও ট্রাফিক পুলিশকে ৫/১০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। বরিশাল পর্যন্ত পৌঁছতে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকার উপরে।
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জমে উঠেছে কোরবানির বাজার। ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার বিভিন্ন ঘাট দিয়ে চোরাইপথে অবাধে আসছে ভারতীয় গরু। কুমিল্লা সীমান্তের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ পথে আসা এসব গরু স্থানীয় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছে এবং দূর-দূরান্তের বেপারীরা ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চোরাইপথে আসা ভারতীয় পশুর বেশিরভাগই রোগাক্রান্ত এবং এসবের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটগুলোতে নেই কোন ব্যবস্থা। হাটগুলোতে গত বছরের মত এবারও দেশি গরুর কদর বেশি। দেশি জাতের গরুর আমদানি বেশি, বিক্রিতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, জেলার বিভিন্ন সীমান্ত ঘাট দিয়ে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় গরুতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম নাগালের মধ্যেই আছে। জেলার সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর, নোয়াপুর, সোনাপুর, বদরপুর, মাড্ডা, কেসকিমুড়া, ডিমাতলী, জামমুড়া, কড়ইবন, ভাটবাড়ি, কাঠালিয়া, চরলক্ষ্মীপুর, আমানগন্ডা, মতিয়াতলী, নোয়াপাড়া, নাটাপাড়া, সদর দক্ষিণের শুয়াগাজী, দড়িবটগ্রাম, বলারডেবা, একবালিয়া, তালপট্টি, রাজেশপুর, মথুরাপুর, লালবাগ, আদর্শ সদর উপজেলার সূবর্ণপুর, বিবিরবাজার, সাহাপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, তেলকুপি, গোলাবাড়ী, কর্নেল বাজার, বুড়িচং উপজেলার বাঁশতলী, ভবেরমুড়া, ঘিলাতলা, পাহাড়পুর, সংকুচাইল, আনন্দপুর, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার তেঁতাভূমি, নারায়ণপুর, সালদানদী, আশাবাড়ী, গঙ্গাসাগরসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পয়েন্ট দিয়ে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় গরু অবাধে প্রবেশ করছে। বরুড়ার গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, ভারতীয় এসব গরুর বেশ চাহিদা আছে।
শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুরে কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর পশু উঠলেও ক্রেতা কম থাকায় দামে মন্দা। এ উপজেলায় প্রতি বছরই একটু দেরিতে কোরবানির হাট জমে। পশু বেচা-কেনার বাড়তি ঝামেলা থেকে বাঁচতে ক্রেতা-বিক্রেতারা সিন্ডিকেটবিহীন এ ছোট হাটগুলোতে ভিড় করে থাকেন। ইজারাদার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে দিবা-রাত্রি লাইটিং, পানি, খাবারসহ নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন। মঙ্গলবার উপজেলার প্রধান পশুর হাটে গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি গরু আমদানি হয়েছে। গরুগুলোর মাঝে দেশি গরুর চেয়ে বিদেশি শংকর প্রজাতির গরুই বেশি দেখা গেছে। এক্ষেত্রে হাটে বেচা-কেনা যা হউক, ক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
শরিফুল ইসলাম, লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, লোহাগড়া উপজেলা সদরে গতকাল শুক্রবার স্মরণকালের সর্ববৃহত্ কোরবানির পশুর হাট মিলতে দেখা গেছে। তবে ভারতীয় গরু সরবরাহ বেশি থাকায় দেশীয় গরুর দাম অন্যান্য বারের তুলনায় কম হওয়ায় বিক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করেন। লোহাগড়া হাটে এই অঞ্চলের সব থেকে বেশি কেনাবেচা হওয়ার আশায় বিপুল ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। হাটে গৃহপালিত গরু ছাড়াও মোটাতাজা খামারিদের গরুও দেখা যায়। লোহাগড়া পাইলট স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে বসা গরুর হাটে পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা, কাশিয়ানী, মোহাম্মদপুর কালিয়া ও নড়াইল সদর উপজেলা থেকে এসব গরুর আমদানি হয়। অন্যান্য বার মাঠেই হাট সংকুলান হলেও এবার মাঠ ছাড়িয়ে আশেপাশের অলি-গলিতে, বাজারের বিভিন্ন রাস্তায় হাট ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল রোড ও কলেজ, ফয়েজ মোড়, মদিনাপাড়া সিএন্ডবি রাস্তাসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকা।
এমএইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, চকরিয়া উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির হাট। নিত্যদিন উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারে দুপুর থেকে রাত অবধি চলছে গরু-ছাগল বেচাকেনা। প্রত্যেক বাজারে প্রচুর গরু-ছাগল আমদানি করছেন বিক্রেতারা। এবার ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারি সাইজের গরু। অভিযোগ, কোরবানির বাজারকে টার্গেট করে জাল নোট পাচারকারী চক্র তত্পর হয়েছে। তারা প্রত্যেক বাজারে অবস্থান নিয়েছে। ইজারাদাররা জানিয়েছেন, গত বছর সোনালী ব্যাংক চিরিঙ্গা শাখার পক্ষ থেকে বাজারে জাল নোট সনাক্ত করতে মেশিন স্থাপন করলেও এ বছর স্পর্শকাতর এ বিষয়টি দেখভালে উদ্যোগ নেয়নি কেউ। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে জাল নোট আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভার স্থায়ী ও অস্থায়ী বারটি বাজারে চালু হয়েছে কোরবানি পশুর হাট। বিশেষ করে উপজেলার বড় কোরবানি পশুর হাট পৌরসভার ঘনশ্যাম বাজার, মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠ, পৌর বাস টার্মিনাল মাঠ, বদরখালী বাজার, ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বেতুয়াবাজার, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী বাজার, হারবাং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বরইতলী গরু বাজার ও নতুন চালু হওয়া ভেন্ডিবাজার অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট এখন জমে উঠেছে।
আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, টেকনাফে কোরবানিকে সামনে রেখে মিয়ানমারের গবাদিপশু আসছে। প্রতিবছর কোরবানি ঈদে মিয়ানমার থেকে হাজার হাজার গবাদিপশু করিডোরে আসে। মিয়ানমার থেকে গত বছরের চেয়ে এবার অনেক বেশি গাবিদপশু আসছে। সরকার করিডোর থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও স্থায়ী করিডোর এখনো গড়ে তোলেনি। তাছাড়া শাহপরীর দ্বীপ সড়ক ভাঙ্গনের ফলে গরু ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার গরু ব্যাপারিরা করিডোর থেকে গবাদিপশু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
