আরাফাতের ময়দান হচ্ছে হাজিদের মোনাজাত কবুলের স্থান। জীবনে যে সমস্ত গুনাহ হয়ে গেছে এবং এখনো হচ্ছে তা থেকে মুক্তির জন্য হাজিরা নিজের মনের আয়নায় গুনাহ দেখে লজ্জিত হন। একই সাথে তওবা করেন। আরাফাতের ময়দান সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ দুপুর থেকে সূর্যান্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান করা ওয়াজিব। আর এ সময়টুকু হচ্ছে হজ্বের প্রাণ, প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত মূল্যবান এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ।
বুখারী শরীফে বলা হয়েছে, দুনিয়াতে ইসলাম কায়েম হওয়ার পর আল্লাহ তা’আলা তাঁর হাবীবকে (সা.) সাধারণ মানুষের ন্যায় আরাফার ময়দানে গিয়ে অবস্থান এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করতে নির্দেশ দেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, প্রত্যাবর্তন করুন সেখান থেকে, মানুষ যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে থাকে।’ হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা আরাফাত দিবসে যত বান্দাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করে থাকেন, অন্য কোন দিন এতো বান্দাকে মুক্তি দান করেন না।’
পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরই লাখ লাখ হাজি আরাফাতের ময়দান ছেড়ে মুজদালিফার পথে পা বাড়ান। মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই তাঁদের মুজদালিফায় উপস্থিত হতে হয়। এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করার পর সারারাত হাজিরা মুজদালিফায় অবস্থান করেন। এখানে অবস্থান করে নামাজ আদায়, জিকির ও এস্তেগফারসহ রাতভর আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় হাজিরা মোনাজাতে মশগুল থাকেন। সুবেহ সাদেক হওয়ার পর আউয়াল ওয়াক্তে জামায়াতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা সূর্যোদয়ের কয়েক মিনিট আগে মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এ সময় তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করেন শয়তানের উপর নিক্ষেপ করার জন্য।
মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এর প্রথমটি হচ্ছে, বড় শয়তান অর্থাত্ জামারায় আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ। দ্বিতীয়, পশু কোরবানি করা। তৃতীয়, হাজিদের মাথা ন্যাড়া করা এবং চতুর্থ তাওয়াফে জিয়ারত করা। শয়তানকে পাথর মারার ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, হজ্বে একটি কার্যক্রম হিসাবে তিন পর্বে বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের (জামারা) উপর সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করেন। মিনাকে ডান দিকে রেখে দাঁড়িয়ে হাজিরা প্রথম পর্বে বড় শয়তানের উপর সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেন। এর মাধ্যমে হাজিরা তাঁদের ওপর ক্রিয়াশীল মানুষের চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তান এবং নিজেদের নফ্?সের কুমন্ত্রণাগুলোকেই মন থেকে ঘৃণা করতে শিখেন। এরপর হাজিদের পরবর্তী জীবনে সেভাবেই চলতে হয়।
