নির্বাচনী ঈদ!

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৪১
এবার কোরবানির ঈদ উদযাপন হচ্ছে ঠিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বেজে উঠার ঠিক আগমুহূর্তে। যদিও গত কয়েক মাস ধরেই গ্রাম-গঞ্জে নির্বাচনী বাতাস বইতে শুরু করেছে। সংবিধান অনুসারে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর এ কারণে এবার ঈদ হয়ে উঠেছে অনেকটা নির্বাচনী আমেজের। সব রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। সংখ্যায় কম হলেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বছরজুড়েই এলাকা নিয়ে থাকেন। দুই ঈদ, পূজা ছাড়াও শীতকালে এলাকার দরিদ্র মানুষদের মধ্যে কাপড়চোপড় এবং শীতবস্ত্র পাঠানো, নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা তাদের রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। যদিও এদের সংখ্যা অবশ্য খুবই কম। সব রাজনৈতিক দলেরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় বেশি ছুটেন নির্বাচন সামনে এলে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তারা পরিকল্পনা করে এলাকামুখী হন। পোস্টার-ব্যানার কিংবা দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা জানান অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিরোধী দল মাঠে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা বললেও দেশজুড়েই কিন্তু চলছে তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতির আমেজ। সরকারি দল আওয়ামী লীগের এবার সেই চাপ আরও বেশি। ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় সব নির্বাচনী এলাকাতে পোস্টার আর ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে। অনেক প্রার্থী বেশি করে গরু-খাসি কোরবানিও দিচ্ছেন। এলাকাভিত্তিক অসচ্ছলদের জন্য কেউ কেউ আলাদা করে কোরবানির জন্য গরু কিনে দিচ্ছেন। অনেকে নতুন কাপড়-চোপড়ও দিচ্ছেন অস্বচ্ছলদের মধ্যে। ফলে এবার দেশজুড়েই ঈদে সবকিছুতেই ব্যাপকতা বাড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশির ভাগই নিজ নিজ এলাকায় এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন। কোরবানি দিবেন, করবেন শুভেচ্ছা বিনিময়। অনেকে ঈদের পরদিন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছেন। সম্ভাব্য সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের দেশজুড়ে এ আয়োজনের সঙ্গে রাজধানীতেও চলবে অনেক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়পর্ব। রেওয়াজ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের দিন গণভবনে দেশের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ঈদের দিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতার ঈদের এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হলেও এবার নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নিশ্চয়ই তা ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। এর বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের নানা আয়োজন থাকবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বছরজুড়ে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যের ফুলঝুরি ছুটালেও ঈদের সময় পরস্পরকে শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে ভুলেন না তারা। রাজনৈতিক আদর্শগত মতপার্থক্যের মধ্যেও ঈদ কিংবা নববর্ষ তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। এবার ঈদে নির্বাচনী আমেজ, শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব জমজমাট হলেও ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবরের পরের সময়কাল নিয়ে রয়েছে এক আতংক। কারণ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে সংকটের পূর্বাভাসও বাড়ছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এখন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো দূরের কথা, এ নিয়ে আলোচনার কথাও আর বলছে না। অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে এখনও অনড় রয়েছেন। তারা এখন আন্দোলনের মাধ্যমেই এ দাবি আদায়কে কৌশল হিসেবে নিয়েছেন। ফলে ঈদ পরবর্তী দিনগুলো যে অনিশ্চয়তায় ভরা থাকবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে হরতাল, অবরোধ দিয়ে দেশ অচল করে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলের নেতাদের মুখ থেকে। সরকারি দলের মুখেও এখনও সমঝোতার কোনো সুখবর পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিশ্চয়তা আর টানাপোড়নের মধ্যেও এবারের ঈদে নির্বাচনী আমেজযুক্ত হওয়ায় তা আরও বেশি উত্সবমুখর হয়ে উঠতে পারে। ঈদের আনন্দে, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসায় কেটেও তো যেতে পারে সামনের সব অনিশ্চয়তা। ঈদ উত্সব থেকে শুরু হতে পারে নির্বাচনী উত্সব। আশা একটু বেশি করতে দোষ কোথায়?