ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব ঈদ এলে সবার মাঝে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। ঈদের সময় কয়েকদিনের ছুটিকে আমরা নানাভাবে উপভোগ করি। যান্ত্রিক এই নগরীর কোলাহল থেকে বাঁচতে ও পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্তে সময় কাটাতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ছোটেন। আমাদের শোবিজ মিডিয়ার তারকারাও ঈদে অনেক মজা করেন, আনন্দ করেন। আমাদের এবারের আয়োজনে তারকারা জানিয়েছেন—কোরবানি ঈদের ছুটিতে তারা কী করেন সে সম্পর্কে। লিখেছেন খালেদ আহমেদ
জাহিদ হাসান
জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান অভিনয় ও পরিচালনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। বছরজুড়ে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেই থাকেন তিনি। ঈদের স্মৃতির কথা উঠতেই তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল। ঈদ এলেই খুশিতে বাগবাগ হয়ে যেতাম ছোট্ট আমি। সেটা রোজা নাকি কোরবানি ঈদ হবে তাতে কিছু যায় আসে না। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে দশ-বারো জন বন্ধু মিলে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়া, তারপর দিনমান হৈচৈ আর দৌড়াদৌড়ি। আর একটু যখন বড় হলাম, তখন উন্মুখ হয়ে থাকতাম কবে আসবে ঈদ, কখন যাব বাবা আর বড় ভাইয়ের পিছু পিছু কোরবানির হাটে। পুরো হাটজুড়ে হৈচৈ, চিত্কারের বন্যা। অনেক বাছাবাছির পর গরু কিনে হাঁটাতে হাঁটাতে বাড়ি আনতাম আর সারাক্ষণ আতঙ্কিত থাকতাম, এই বুঝি দড়ি ছিঁড়ে দৌড় দিল গরু। যা হোক, সব কষ্ট ভুলে যেতাম যখন দেখতাম গ্রামের সবার চেয়ে আমাদের গরুটাই দেখতে ভালো হয়েছে। আর প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির ঈদ সিরাজগঞ্জে পালন করার ইচ্ছা আছে।’
মাহফুজ আহমেদ
জনপ্রিয় অভিনেতা ও নাট্যনির্মাতা মাহফুজ আহমেদ ঈদে বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায় থাকেন। ঈদে অন্য সবার মতো তিনিও গরু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গরুর হাটে যাওয়া, গরু নিয়ে বাড়িতে ফেরা—এগুলো স্মৃতির পাতায় আজও ভেসে আসে এ অভিনেতার। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কি ছোটবেলার ঈদের আনন্দ ছিল অন্য রকমের। যতই বড় হয়েছি আনন্দটা কমতে শুরু হয়েছে। শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কখনও ফিরে আসার নয়। তবু ঈদে চেষ্টা করি পরিবারের সবার সাথে আনন্দ করতে।’
মোশাররফ করিম
সেই ছোটবেলা থেকে প্রতি বছরই গরুর হাটে যান জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। তিনি বললেন, ‘কোরবানির ঈদে এই কাজটিই সবচেয়ে আনন্দময়। কিন্তু মাংস কাটাকাটি আমার মোটেই ভালো লাগে না। কারণ আমার স্বভাব আছে রক্ত দেখলে আঁতকে ওঠার। ঈদের আগে আগে শুটিংয়ের অনেক ব্যস্ততা থাকে যদিও, কিন্তু হাটে ঢুঁ দেওয়ার জন্য একটু সময় বের করি। গরু কিনতে একা একা যাই না। সঙ্গে থাকে পরিবারের লোকজন, বন্ধুবান্ধব। আমি তো যে গরুটা দেখি, সেটাকেই ভালো মনে হয়। তেমন কিছুই বুঝি না। তবে আমার কয়েকজন বন্ধু আছে, যারা এ ব্যাপারে এক্সপার্ট। তারা সঙ্গে থাকলে আর চিন্তা নেই। গরু কেনার নাকি একটা সিস্টেম আছে। দাঁত দেখে কিনতে হয়। কিন্তু দাঁত দেখে কিভাবে কী বুঝতে হয়, সে সিস্টেমটা এখনও শেখা হয়নি।’ এবারের ঈদও ঢাকায় নিজের বাসায় বিশ্রামেই কেটে যাবে তার।
অপি করিম
জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম ঈদের ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাবা-মায়ের সাথেই সব সময় আমি ঈদ করি। বিয়ের আগ পর্যন্ত বাবা-মায়ের সাথেই ঈদ করা হতো আমার। আর এখন ঈদ নিজের বাড়িতেই করি। তবে চেষ্টা করি ঈদের সময়টুকু বাবা-মায়ের কাছে যেতে। আমি আসলে ঈদে কী করব, না করব তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই করি না। কারণ দেখা যায় যে ভাবি এক, হয় আরেক। মানুষের জীবনে তো কত কিছুই হতে পারে। তাই ঈদ নিয়ে হয়তো ভাবি আমি অন্য অনেক কিছুর চেয়ে একটু বেশি। ঈদ আমার সত্যিকার অর্থেই ভালোলাগার একটি বিষয় সবারই মতো। ছোটবেলায় সবার কাছ থেকে ঈদি পেতে খুব ভালো লাগত। এই বয়সে এসে আমি মূলত ঈদি দিতেই পছন্দ করি বেশি। এবারের ঈদটা মা-ভাইবোনদের সাথেই কাটানোর ইচ্ছা আছে।’
কুসুম শিকদার
ঈদের ভাবনার কথা উঠতেই ব্যস্ততম অভিনেত্রী কুসুম সিকদার যেন স্মৃতির সাগরে ভাসতে লাগলেন। তার ভাষ্যে, ‘আমার গ্রামের বাড়ি যশোর। তবে বাবার চাকরির সুবাদে যশোর আমাদের খুব কমই ঈদ করতে হয়েছে। যে কারণে গ্রামের বাড়ির বাইরেও আমাদেরকে ঈদের সময়টুকু পার করতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমি গান গাইতে পারতাম। এজন্য আমাকে সবাই খুব পছন্দ করতেন। যে কারণে ঈদ এলে স্বাভাবিকভাবেই আমি ঈদি পেতাম অনেক বেশি। তাই প্রতিবছরই ঈদের সময়টুকুর জন্য আমি খুবই অপেক্ষা করতাম। আমার আব্বু-আম্মুও আমাকে অনেক বেশি বেশি ঈদি দিতেন। তা নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আনন্দ আড্ডায় মেতে থাকতাম। এখন আমি বড় হয়েছি, সংসার হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির ভাবনা নিয়েই সময় কাটে আমার। কখন কী করব না করব—এই ভাবতে ভাবতেই আমার সময় কেটে যায়।’
জাকিয়া বারী মম
লাক্সতারকা মম’র কাছে ঈদের ভাবনার কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘ঈদ-স্মতি মানেই হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আমরা যৌথ পরিবারে থাকতাম। যে কারণে ঈদ আনন্দ অন্যরকমভাবে পালিত হতো। ভীষণ আনন্দে কেটেছে আমার ছোটবেলার ঈদ। কিন্তু এখন সবাই ঢাকায় চলে আসার কারণে বাড়িতে কারোরই ঈদ করতে যাওয়া হয় না। তা ছাড়া ঈদের সময় বিশাল যানজট পেরিয়ে কেউই ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে চান না। আমার বিয়ের আগ পর্যন্ত আমি পরিবারের সাথেই সব সময় ঈদের সময়টুকু কাটিয়েছি। বিয়ের পর আমার জীবনে একটু পরিবর্তন এসেছে। আমার সন্তান উদ্ভাসকে নিয়েই কাটে আমার ঈদ প্রহর। এখন শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্রতিও একটা দায়বদ্ধতা কাজ করে। তাদের জন্য ঈদের সময় আলাদাভাবে খাবারদাবার তৈরি করা, তা পরিবেশন করা। সবমিলিয়ে আসলে ঈদের সময়টা কাটে অতি ব্যস্ততায় এবং অন্যরকমভাবে।’
