আজ ১৩ অক্টোবর বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বড়ইতলায় জেলার নৃশংসতম গণহত্যাটি সংঘটিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্মস্থান যশোদল-বীর দামপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী বড়ইতলা গ্রামে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের সাড়ে তিন শতাধিক নিরীহ লোককে ধরে এনে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পাকবাহিনী। সেদিন অলৌকিভাবে মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পাওয়া কয়েকজন সেই ভয়াল স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজও বেঁচে আছে।
স্বাধীনতার পর এলাকাবাসী শহীদদের স্মরণে বড়ইতলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন শহীদনগর। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে জেলা পরিষদের তদানিন্তন সচিব সুভাষ চন্দ্র সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টায় গণশহীদদের স্মরণে সেই বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। পরবর্তীকালে ২০০১ সালের ১১ জুলাই তত্কালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সেখানে বর্তমান স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয়। ২০০৮-২০০৯ সালে জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বনমালী ভৌমিকের উদ্যোগে স্মৃতিসৌধের পাশেই শহীদদের নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি সুউচ্চ স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। সারাবছরই স্মৃিতসৌধটি খুবই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। সেখানে একটি শহীদ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।
