রাজধানী হাটগুলো রাতে জমজমাট হয়ে উঠছে। কোরবানির পশুর বেচাকেনা বেশি হচ্ছে রাতে। ক্রেতারা বলছেন, রাতে রাজধানীর রাস্তায় যানবাহন কম থাকায় পশু কেনার পর বাসায় নেয়া সুবিধা। তাছাড়া রাতে কিছুটা ঠাণ্ডা থাকায় দেখেশুনে পশু কেনা যায়।
রাজধানীর তিন প্রবেশ পথের হাটগুলোতে ইজারাদারদের বিশেষ বাহিনীর দাপটে বেপারিরা অসহায়। হাটের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাক আটকে দিচ্ছেন ইজারাদারের লোকজন। ব্যবসায়ী ওই হাটে গরু নামাতে না চাইলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব হাটসংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে রড ও লাঠিহাতে অর্ধশতাধিক যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। গরুর ট্রাক আসতে দেখলেই রাস্তা অবরোধ করে নির্দেশ দিচ্ছে তাদের হাটে গরু নামাতে। যেখানে-সেখানে গরুবাহী ট্রাক আটকানোর কারণে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশকেও সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত ১৯টি হাটের বাইরেও বিভিন্ন রাস্তায় অস্থায়ী অবৈধ পশুর হাট গড়ে উঠেছে। শুক্র ও শনিবার মধ্যরাতেও হাটগুলোতে গরু-ছাগল বেচাকেনা হয়েছে। রাত তিনটার দিকে গাবতলী গরুর হাটে গিয়ে বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাবতলী পশুর হাট বসেছে। গাবতলীর হাট ভারতের রাজস্থান থেকে আনা গরুর দাম ইতিমধ্যে ১৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হয়েছে। একই হাটে দুই থেকে তিন মণ ওজনের একটি দুম্বার দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ৯-১০ মণ ওজনের উটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। ৫০ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ৬০ হাজার টাকা।
গরু ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতারা গরুর দর যাচাই করতে চাইছেন। ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি গরুর চাহিদা বেশি। রামপুরা বনশ্রীর মেরাদিয়া পশুর হাটে এক বেপারি বলেন, শুক্রবার রাতে ট্রাকে গরু নিয়ে কমলাপুর হাটে যাচ্ছিলেন। রামপুরা ব্রিজ পার হওয়ার সময় ১০/১২ যুবক জোর করে তাকে এ হাটে নিয়ে আসে।
