সাগরে পাওয়া বিদেশি তরুণী বরিশালের সেফহোমে এখন সুস্থ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩১
বঙ্গোপসাগরে ১২ দিন পূর্বে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার অজ্ঞাতনামা বিদেশি তরুণী গত এক সপ্তাহ ধরে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেফহোমে রয়েছে। আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এ তরুণীর মুখের ভাষা বুঝতে না পারা ও আইনি জটিলতার কারণে তার নাম-ঠিকানা উদ্ধার বা নিজদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে পারছে না সমাজসেবা অধিদপ্তর। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ‘ইত্তেফাক’কে জানান, ১ অক্টোবর সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বঙ্গোপসাগরের লেম্বুরচর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় জেলেরা তরুণীকে উদ্ধার করে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার প্রায় শেষভাগ থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী তখন কিছুটা অসুস্থ ছিল। জেলেরা তাকে রাখাইন মনে করে তার ভাষা না বুঝতে পেরে বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের রাখাইন পল্লীতে নিয়ে আসেন। রাখাইন পল্লীর নামিশেপাড়ার বাসিন্দা সুধশ্যো সচীনবাবু তরুণীকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। বিষয়টি স্থানীয় বখাটে যুবকেরা জানতে পেরে ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। আশ্রয়দাতা পরিবারকেও তারা হুমকি দিতে থাকে। নিরূপায় সচীনবাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা রাখাইন পল্লীর লোকজনকে নিয়ে আমতলী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহিত করেন। তারা পুলিশের সহায়তায় ৫ অক্টোবর তরুণীকে তাদের হেফাজতে নেন। পরদিন তাকে আদালতের অনুমতি নিয়ে তালতলী থানা পুলিশের সহযোগিতায় বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেফহোমে পৌঁছে দেয়া হয়। সেফহোম কর্তৃপক্ষ তরুণীকে তাদের হেফাজতে রেখে ভাষা বোঝার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ‘ইত্তেফাক’কে জানান, তরুণীর কাউন্সেলিং করার জন্য তিনি কয়েকবার সেফহোমে গিয়ে সাক্ষাত্ করেছেন। কিন্তু তার ভাষা বুঝতে না পারায় কোন কুলকিনারা করতে পারেননি সাজ্জাদ হোসেন। সেফহোমের তত্ত্বাবধায়ক শাহজাদী ‘ইত্তেফাক’কে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন, তরুণীর ভাষা বুঝতে না পারায় এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সে যেদিন সেফহোমে এসেছিল সেদিন মানসিক ও শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। এখন সে পুরোপুরি সুস্থ। আগে তেমন কথা বলতো না। এখন কথা বলে। কিন্তু বোঝার উপায় নেই। সেফহোম কর্তৃপক্ষের ধারণা, তরুণী মিয়ানমারের বাসিন্দা হতে পারে। তবে আদালত সেফহোমে রাখার বাইরে আপাতত কোন নির্দেশ না দেয়ায় সেফহোম কর্তৃপক্ষ নতুন কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান। তিনি উদ্ধার করে নিয়ে আসা জেলেদের সাথেও যোগাযোগ করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন।