লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৬
মদিনার মসজিদে নববী থেকে মক্কা পর্যন্ত পুরো রাস্তায় হাজীদের কাফেলা। এবার যারা হজ্বব্রত পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছেন তাদের কেউই এখন আর মদিনার মসজিদে নববীতে নেই। আজ জিলহজ্ব মাসের ৭ তারিখ। আর সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই হাজীদের উপস্থিত হতে হবে মক্কায়। হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ১০ দিন আগে যারা সৌদি আরবে গিয়েছেন তারা মদিনায় ৮ দিন অবস্থান করে মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন। আর এ কাজটি হাজীরা গতকাল এশা এবং আজ ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করেন। এরপর সবাই মক্কার পথে মদিনা ত্যাগ করেছেন। মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করার ফজিলত নিয়ে হাদিসে বেশকিছু তথ্য রয়েছে। শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ শেষ হলে হাজীরা ত্যাগের মহিমায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন। পশু কোরবানির পর মাথা ন্যাড়া করে ইহরাম ছেড়ে স্বাভাবিক পোশাকে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ সাতবার ঘুরে তাওয়াফ করেন। তাওয়াফ শেষে হাজীদের গন্তব্য সরাসরি সাফা মারওয়া পাহাড়। যেখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর স্ত্রী এবং শিশুপুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.) এর মা হযরত হাজেরার (আ.) বুকের দুধ ও সাথে থাকা মশকভর্তি পানি শেষ হলে জনমানবশূন্য ও পানিবিহীন মরুভূমির দু’টি পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। হজ্বের সময় হাজীরা এই সাফা মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানোর পর তাঁদেরকে আবার মিনায় তাঁবুতে ফিরে যেতে হয়। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আমার এই মসজিদে এক রাকাত নামাজ, মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদে এক হাজার রাকাত নামাজ পড়ার চেয়ে শ্রেয়। আর মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ, অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাত অপেক্ষা শ্রেয়।’ অপরদিকে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আমার গৃহ এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি, বেহেশতের বাগানসমূহ থেকে ইকট বাগান (রওযাতুম মিন রিয়াযিল জান্নাত)। আমার এই মিম্বর (হাশরের ময়দানে), আমার হাউজে কাওসারের কিনারে স্থাপিত হবে।’ (বুখারী শরীফ) হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিলহজ্বের প্রথম দশদিন হল দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন। বছরে যতগুলো পবিত্র দিন আছে তার মাঝে এ দশদিনের প্রতিটি দিন হল সর্বোত্তম। যেমন এ দশদিনের অন্তর্গত কোন জুমার দিন অন্য সময়ের জুমার দিন থেকে উত্তম বলে বিবেচিত।’ সামগ্রিক বিচারে জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের দিবসগুলো রমজানের শেষ দশকের দিবসসমূহের চেয়ে অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন। আর রমজানের শেষ দশকের লাইলাতুল কদর হল সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন।