চট্টগ্রাম টেস্ট

সোহাগে সুরভিত ৪র্থ দিন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৭
কথায় আছে, ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। প্রবাদতুল্য এই বাক্যটি আবারও সত্য প্রমাণিত হল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। প্রমাণ করলেন সোহাগ গাজী, সাথে ছিলেন রবিউল। শেষ উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের জন ওয়াটলিং ও ট্রেন্ট বোল্টের ১২৭ রানের জবাবে নবম উইকেটে বাংলাদেশের এই দুই ব্যাটসম্যান গড়লেন ১০৫ রানের জুটি। সব মিলিয়ে ৩২ রানের লিড নিয়ে তবেই অল আউট হল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন সোহাগ গাজী (১০১*)। ৫০১ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে তৃতীয়বারের মতো ৫০০ রানে পৌঁছাল বাংলাদেশ। সাথে রবিউল ইসলামের অবদানটা ভুলে গেলে চলবে না। ৭৫ বল মোকাবিলা করে তিনি করেন ৩৩ রান। জবাবে দিনের বাকিটা সময়ে এক উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান মমিনুল হক সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়েছিলেন, তার দল চতুর্থ দিন সারাদিন ব্যাট করতে চায়। তেমনটা না হলেও, যা আশা করা হয়েছিল তার প্রাপ্তির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। আগেরদিনে সাত উইকেটে ৩৮০ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ আর মাত্র সাত রান যোগ করেই আব্দুর রাজ্জাকের উইকেট হারায়। এরপর দ্রুতই বাকি দু’টো উইকেট হারানোর শঙ্কা থাকলেও সেই শঙ্কা দূর করতে সময় নেননি সোহাগ গাজী। মূলত বোলার হিসেবে দলে থাকা এই ক্রিকেটার গতকাল হয়ে উঠলেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। আগের দিন ২৮ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যান গতকাল ছিলেন আরও বেশি বিপজ্জনক। রবিউলকে সাথে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে সহজেই তুলে নিলেন প্রথম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি। সোহাগের হঠাত্ এই ব্যাটিং চমকটা যে পুরোটাই ফ্লুক নয় সেটা প্রমাণ করতে দ্রুত পৌঁছে গেলেন নব্বইয়ের ঘরে। এরপর একটু সময় নিলেন, কয়েকটা বল ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতিতে গেলেন। এরপর ফিরেই আউট সঙ্গী রবিউল। দর্শকদের মাথায় হাত! সোহাগের সেঞ্চুরি হবে তো? সেটা হলো, আর হলও রাজকীয় ভঙ্গিতে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে জায়গা করে নিয়ে গালির উপর দিয়ে তুলে মারলেন। বল সীমানা পেরোনোর সাথে সাথেই সোহাগের উন্মত্ত উল্লাস। মোটা দাগে এটাই দিনের সব থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এক উইকেটে ১১৭ রান করে সফরকারীরা। ওপেনার পিটার ফুলটন সর্বোচ্চ ৪৪ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান কেন উইলিয়ামসও ২৮ রান করে ক্রিজে আছেন। আরেক ওপেনার হ্যামিশ রাদারফোর্ড ৩২ রান করে নাসির হোসেনের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন। বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের প্রায় চল্লিশ মিনিট আগেই শেষ হয়ে যায়। সাইক্লোন ফাইলিনের গতিপথের ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজও বৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আর ম্যাচের যা অবস্থা তাতে অতিমানবীয় কোন ঘটনা না ঘটলে প্রায় নিশ্চিত ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট।